মাদকের টাকার জন্য চার মাসের শিশু বিক্রি, মামা গ্রেপ্তার
ছবি-সংগৃহীত
পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:০৫
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে গভীর রাতে ঘরের বেড়া কেটে বিছানা থেকে চুরি হওয়া চার মাসের শিশু মাহিন ইসলাম অনাসকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। চুরির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সোমবার বিকেলে শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শিশু চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুটির আপন মামা জিয়ারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ। উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
থানা সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর সদর উপজেলার আল আমিনের স্ত্রী মনিরা বেগম গত বৃহস্পতিবার তাঁর চার মাসের একমাত্র ছেলে অনাসকে নিয়ে পার্বতীপুরের মোমিনপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। গত রোববার রাতে সন্তানকে পাশে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন মনিরা বেগম। গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে তিনি দেখতে পান পাশে সন্তান নেই। স্বজনেরা চারপাশ খুঁজে দেখেন ঘরের বাঁশের চাটাইয়ের বেড়া কেটে শিশুটিকে চোর তুলে নিয়ে গেছে।
সন্তানকে না পেয়ে মায়ের চিৎকারে পরিবার ও আশপাশের লোকজন জড়ো হন। চারদিকে খুঁজেও কোনো সন্ধান না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল দিয়ে পুলিশি সহায়তা চায় পরিবার। খবর পেয়ে পার্বতীপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করে।
পার্বতীপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পিন্টু কুমার দাস জানান, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও সন্দেহভাজন হিসেবে শিশুটির আপন মামা জিয়ারুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে, জিয়ারুলই শিশুটিকে চুরি করে দিনাজপুর সদর উপজেলার নিউটাউন মাথাসাগর এলাকার মিলন নামে এক ব্যক্তির কাছে মাত্র ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে।
সন্দেহ করা হচ্ছে, মাদকের টাকা জোগাড় করতেই আপন ভাগনেকে চুরি করে বিক্রি করেছিলেন মাদকাসক্ত মামা জিয়ারুল। পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও ক্রেতা মিলন পালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি আব্দুল ওয়াদুদ জানান, ‘খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের চৌকস টিম অভিযানে নামে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে তুলে দিতে পেরেছি। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মামা জিয়ারুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশু ক্রয়কারী মিলনসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।