৬০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, পরিবর্তন আসবে অর্থনীতি ও পর্যটনে
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১২ | আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:১৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
খুলনার কয়রা উপজেলার রয়েছে প্রায় হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য। পীর খানজাহান আলীর (রহ.) সময়কার ৯ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ, খালাস খাঁর দিঘি। রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজধানী, স্থানীয়ভাবে যে স্থান ‘বড়বাড়ি’ নামে পরিচিত; যেখানে রয়েছে নানা ধরনের প্রত্নতত্ত্ব। আছে দুই সতিনের পুকুর, আদিবাসীদের বাসস্থান। এসবের পাশাপাশি সুন্দরবনের বিশাল অংশ পড়েছে এ উপজেলায়। পর্যটনের অপার সম্ভাবনা থাকলেও কেবল অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে উপজেলাটি অবহেলিত জনপদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
এ জনপদের উন্নয়নে সম্প্রতি একটি ‘মাস্টার প্ল্যান’ করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তর (এলজিইডি)। এ পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রায় ৬০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ সড়কের মানোন্নয়ন করা হবে। এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্র (গ্রোথ সেন্টার), গ্রামীণ বাজার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করা হবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ এসব সড়ক মূল সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করা হলে দেশের বিভিন্ন শহরে যাতায়াতের পথ সুগম হবে। ফলে বাইরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ বাড়বে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, দেশের অবহেলিত জনপদের উন্নয়নে সরকারি সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে কয়রা উপজেলায় ‘গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক মাস্টার প্ল্যান’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এডিবির অর্থায়নে প্রাথমিকভাবে ৫৩ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য সম্ভাব্য বরাদ্দ হিসাব করে একটি প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা সদর থেকে হায়াতখালি বাজার হয়ে গিলাবাড়ি বাজার পর্যন্ত ১৫ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার সড়ক, খালাস খাঁর দিঘির পাড় হয়ে সুন্দরবন-সংলগ্ন শাকবাড়িয়া নদীর পশ্চিম পাশের বাঁধ দিয়ে গোলখালি পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার, ঘুগরাকাটি মোকাম হয়ে গিলাবাড়ি বাজার থেকে নলিয়ান বাজার অভিমুখে ৭ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার, হোগলা বাজার হয়ে ঘুগরাকাটি মোকাম পর্যন্ত ৮ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার, সড়ক ও জনপদের মসজিদকুড় এলাকা চাঁদখালি বাজার পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের হাতিয়ারডাঙ্গা থেকে গড়াইখালি পর্যন্ত ৩ দশমিক ১১ কিলোমিটার সড়কের যথাযথ মানোন্নয়ন করা হবে। এজন্য সম্ভাব্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪০ কোটি টাকা।
কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিদেশ রঞ্জন মৃধা বলেন, একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা হলেও দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্যের কারণে বাইরের পর্যটকরা এখানে আসতে চায় না। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা কেবল একটি অঞ্চলের মানুষের জীবন-মান বদলে দিতে পারে। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেই লক্ষ্যেই একটি প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যান হয়েছে।
স্থানীয় সমাজকর্মী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এইচ এম শাহাবুদ্দীন বলেন, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে এলাকা ছেড়ে অনেক মানুষ দেশের বিভিন্ন শহরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয় ইউপি ও বেসরকারি সংস্থার হিসাবে এক দশকে প্রায় ১০ হাজার পরিবার কাজের অভাবে স্থানান্তর হয়েছে। অনুন্নত সড়ক যোগাযোগের কারণে চিংড়িসম্পদ, সুন্দরবনের মাছ ও কৃষিপণ্য পরিবহন সম্ভব না হওয়ায় ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন উদ্যোক্তারা। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হলে ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এজন্য প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, উপজেলার প্রধান কয়েকটি সড়ক নির্মাণ ও মেরামতের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই চলছে। ডিপিপি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।
কয়রার ইউএনও মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কের একটিকে আরেকটির সঙ্গে সংযুক্ত করার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে এলাকার ব্যবসা ও পর্যটনে গতি ফিরবে। পাশাপাশি নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
- বিষয় :
- প্রকল্প