ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

মেয়াদ শেষ হলেও শুরুই হয়নি দুই সড়কের কাজ

মেয়াদ শেষ হলেও শুরুই  হয়নি দুই সড়কের কাজ
×
×

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভার সড়ক উন্নয়নের কাজ ঝুলে রয়েছে। তিন মাসে যে কাজ শেষ হওয়ার কথা, তার জন্য কেটে গেছে চার বছর। অথচ এখনও স্থানীয়দের দুর্ভোগ দূর করতে সম্পন্ন করা হয়নি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ।

সর্বশেষ তথ্যমতে, নির্ধারিত তিন মাসের কাজ চার বছরেও শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। যেখানে ১৩টি সড়কের মধ্যে দুটির কাজ এখনও শুরু করা হয়নি।
বছরের পর বছর ধরে উলিপুর উপজেলাসংলগ্ন প্রধান সড়কসহ বাকি সড়কগুলো অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে থাকায় দুর্ভোগের সঙ্গে ক্ষোভ বাড়ছে পৌরবাসীর। অভিযোগ উঠেছে, বিধিবহির্ভূতভাবে মূল ঠিকাদারদের বদলে অনভিজ্ঞ সাব-ঠিকাদার দিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করার কারণে এই পরিস্থিতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভাটি ২০২১ সালে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ার পর নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-আইইউজিআইপির আওতাভুক্ত হয়। এরপর ২০২৩ সালে প্রায় ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্যাকেজে ২০ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স বেলাল কনস্ট্রাকশন (দুটি প্যাকেজে আটটি সড়ক) ও মেসার্স নিপা এন্টারপ্রাইজ (একটি প্যাকেজে পাঁচটি সড়ক)।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটি চুক্তি ভঙ্গ করে অনভিজ্ঞ সাব-ঠিকাদারদের কাছে কাজ বিক্রি করে দেয়। বেলাল কনস্ট্রাকশনের পক্ষে শফিকুল ইসলাম ও দিন ইসলাম রুবেল এবং নিপা এন্টারপ্রাইজের পক্ষে মফিজল হক কাজগুলো তদারক শুরু করেন।
অভিযোগ ওঠে, শুরুতেই তারা নিম্নমানের ইট, খোয়া ও বালু ব্যবহার করেন। অর্থায়নকারী সংস্থা আইইউজিআইপি কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেও নিম্নমানের ইটের খোয়া (ডব্লিউবিএম) সড়কগুলোয় ফেলে রাখা হয়।

দুর্বিষহ দুর্ভোগের কথা জানিয়ে নারিকেলবাড়ী গ্রামের ভ্যানচালক কচির উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। খালি ইটের খোয়ায় ভ্যানের টায়ার ফেটে যায়। অনেক সময় দিনে দুবারও এমন ঘটনা ঘটে। ঠিক করতে ৫০ টাকা লাগে। ভ্যানের আয় দিয়ে এভাবে চলা যায় না।
জোনাইডাঙ্গা গ্রামের ব্যবসায়ী রতন কুমার সরকার বলেন, কয়েক বছর ধরে সড়কে খোয়া ফেলে রাখা হয়েছে, পাকা হচ্ছে না। এটি যেন শুধু কর নেওয়ার পৌরসভা, কোনো সেবা নেই। পশ্চিম শিববাড়ি গ্রামের বাসিন্দা বিষাদ চন্দ্র জানান, বাড়ি থেকে বের হলে চলাচলের কোনো উপায় থাকে না। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে নালা হয়ে যায়।
নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় এবং শর্ত পূরণ না করায় প্রকল্পে পরবর্তী বরাদ্দের ৩০ কোটি টাকা আটকে গেছে। প্রকল্পটির মোট বাজেট ছিল ৬৩ কোটি টাকা, যা ২০২৮ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা।

বারবার সময় বাড়িয়েও কাজ না করায় পৌর কর্তৃপক্ষ আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়ে চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে শেষ না হলে ১০ শতাংশ টাকা কর্তনসহ কার্যাদেশ বাতিলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ঠিকাদার দিন ইসলাম রুবেল বলেন, কাজ শুরুর পর আটকে যায়। নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ায় ৫০ ভাগ কাজ শেষ করার পর আর করা হয়নি। তবে চেষ্টা চলছে দ্রুত শেষ করার।
মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেলাল কনস্ট্রাকশনের মালিক মো. বেলাল হোসেন জানান, সাব-ঠিকাদারদের ব্যর্থতায় তিনি বিপদে পড়েছেন এবং বারবার বৈঠক করে কাজ শুরুর তাগিদ দিচ্ছেন।
আইইউজিআইপির মান নিয়ন্ত্রণ প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম এবং পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম জানান, কাজের মান ঠিক করে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বর্ধিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ জানান, সড়কগুলো পরিদর্শন করে মূল ঠিকাদারকে শোকজ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ না হলে আগের চুক্তি বাতিল করে নতুন টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

আরও পড়ুন

×