ওসিকে বিএনপি নেতার হুমকি
‘বাহার গেছে যে পথে, আপনিও যাবেন সে পথে’
নড়িয়া থানায় ওসি ও বিএনপি নেতা মতিউর রহমান সাগর
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:৪২ | আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:৪৩
শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেনকে ‘বাহার যে পথে গেছে, আপনিও যাবেন সে পথে’ বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
নির্বাচনী বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেবের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনার পর নড়িয়া থানায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় অর্ণবের চাচা আব্দুস সালামকে ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘যুবলীগ’ আখ্যা দিয়ে থানায় নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে সাগর ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় আব্দুস সালামকে ছেড়ে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার বিকেলে নড়িয়া উপজেলার নোয়াদ্দা বাংলাবাজার এলাকায় নির্বাচনী বিলবোর্ড স্থাপন করতে যান ঘড়িষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর।
এ সময় জমির মালিক আবু তালেব বিলবোর্ড স্থাপনে বাধা দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সেখানে যান আবু তালেবের ভাই আব্দুস সালাম।
অভিযোগ উঠেছে, পরে সাগর ও তার অনুসারীরা আব্দুস সালামকে মারধর করেন এবং তাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘যুবলীগ’ আখ্যা দিয়ে থানায় নিয়ে যান। সাগর তার নির্বাচনী ব্যানার ছেঁড়া ও পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগে আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তারের দাবি করেন। পাশাপাশি তার দায়ের করা আগের একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আব্দুস সালামকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেপ্তারের দাবিও জানান।
তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাগর ওসি আনোয়ার হোসেনকে উদ্দেশ করে ওই হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আব্দুস সালাম বলেন, তার বড় ভাইয়ের জায়গায় সাইনবোর্ড টাঙানোকে কেন্দ্র করে সাগরের সঙ্গে তার ভাইয়ের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তার ভাইকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে সেখান থেকে চলে আসেন। কিছুক্ষণ পর তার বাড়ির সামনে ৮ থেকে ১০ জন লোক গিয়ে তাকে মারধর করেন। পরে তাকে ‘যুবলীগ’ ট্যাগ দিয়ে থানায় আটকের চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মতিউর রহমান সাগরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, ‘আমাদের কাছে যে অভিযোগটি এসেছিল, সেটি ভেরিফাই করেছি। এটি সাধারণ হাতাহাতির ঘটনা। হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল আব্দুস সালামের ভাইয়ের সঙ্গে। তাই আব্দুস সালামকে আমরা ছেড়ে দিয়েছি।’
ওসিকে হুমকির বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। তারা রাষ্ট্রের জন্য কাজ করেন। কোনো ভুল হলে রাষ্ট্র বিষয়টি দেখবে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গিয়ে কেউ হয়রানির শিকার হলে সেটিও রাষ্ট্র দেখবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সেখান থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, সাগরের বিরুদ্ধে এর আগেও প্রশাসনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। ইউএনও, এসিল্যান্ড ও পুলিশ সুপারকে নিয়েও তিনি আপত্তিকর কথা বলেছিলেন। এসব ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং সাগর দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে ক্ষমাও চেয়েছিলেন।
শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, ‘তিনি যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলেছেন, এটা মোটেও কাম্য নয়। আমরা যারা সমাজে বাস করি এবং রাজনীতি করি, আমাদের এভাবে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করার ক্ষমতা নেই। বিষয়টি আগামী দুই দিনের মধ্যে দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করব। তদন্ত করে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কাছে বিষয়টি পাঠাব।’