ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সড়ক তো নয়, যেন পুকুর

সড়ক তো নয়, যেন পুকুর
×
×

বৃষ্টিতে কাদা জমেছে আথানগিরি-গজনাইপুর সড়কে। সেখান দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাচ্ছে অটোরিকশা। সম্প্রতি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুরে সমকাল

এম. এ. আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০১

| প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দরগাপাড়ায় বাড়ি ফারিয়া জান্নাত মনির। প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দিনারপুর কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়েন এই তরুণী। প্রতিদিন তাঁকে কলেজে আসা-যাওয়া করতে হয় গজনাইপুর-আথানগিরি সড়ক ধরে। দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় এই সড়কের অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছে যে, অটোরিকশার জন্য তাঁকে ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করতে হয়। অথচ ২০-৩০ মিনিটের মধ্যে তাঁর কলেজ যাওয়ার কথা।

সম্প্রতি সড়কটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় কলেজছাত্রী ফারিয়া জান্নাত মনি হেঁটে কলেজ যাচ্ছেন। তিনি বললেন, বেহাল সড়কে আগের মতো গাড়ি পাওয়া যায় না। তাই অপেক্ষা করে সময় নষ্ট না করে হেঁটে কলেজে যাচ্ছেন। এতে ক্লান্তি আসে। ফলে ক্লাসে তেমন মনোযোগ থাকে না। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হতে বেশি কষ্ট করতে হয়।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নবীগঞ্জ উপজেলার জনতার বাজার থেকে কাগাবলা, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আথানগিরি হয়ে এই সড়কটি গেছে মৌলভীবাজার শহরে। মৌলভীবাজার সদরের সঙ্গে যোগাযোগে কাগাবলা, আথানগিরি, নবীগঞ্জের শতক, তারালিয়া, লামরোহ, মাহমদপুর, গজনাইপুরসহ ১০-১৫টি গ্রামের মানুষ এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। পাশে রয়েছে নবীগঞ্জ দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দিনারপুর কলেজ, পানিউমদা রাগিব রাবিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও দিনারপুর মাদ্রাসা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি সর্বশেষ পাকা করা হয়েছে ২০ বছর আগে। তিন বছর আগে একবার সংস্কার হলেও কিছু এলাকার অবস্থা নাজুক। বিশেষ করে গজনাইপুর থেকে আথানগিরি পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশে যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, তিন বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ হাজার হাজার মানুষকে। অভিযোগ রয়েছে, সড়ক নির্মাণের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল। যে কারণে অনেক জায়গায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রায় সময় অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন উল্টে যায়। পথ পিছলে দুর্ঘটনায় পড়েন পথচারীরাও।
দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে ফাতেমা আক্তার। সে জানাল, সড়কের অবস্থা এত খারাপ যে, প্রতিদিন স্কুলে যেতে মন চায় না। এর মধ্যে এখন প্রতিদিন বৃষ্টি হয়, সামান্য বৃষ্টি হলে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। গর্তের মধ্যে ময়লা জমে থাকে। ভালো জামাকাপড়ও নোংরা হয়ে যায়।
সম্প্রতি দেখা গেছে, সড়কটির গজনাইপুর, জনতার বাজার, শতক বাজার, দরগাপাড়া, কামারগাঁও, আথানগিরি এলাকায় ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কাদায় ভরে থাকা গর্ত দিয়ে যানবাহন চালাতে নানা কসরত করতে হয় চালকদের।

জনতার বাজারে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক হেলাল মিয়া বিদ্রুপ করে বলেন, এটি সড়ক নয় তো, যেন পুকুর। কেথাও কোথাও ধান রোপণ করা লাগবে। একটা গাড়ি চলার উপায় নেই। বৃষ্টি হলে পানি জমে, মাছও চাষ করা যাবে!
শতক গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুর রশিদকে পাওয়া যায় জনতার বাজারে। তিনি জানালেন, আগে থেকে সড়কটির অবস্থা খারাপ। বিগত ৩-৪ বছরে সড়কের বেশির ভাগ অংশে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচলে অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীরা বিপাকে পড়েছে। খানাখন্দের কারণে এখানে দুর্ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। দ্রুতগতির কোনো যানবাহন যদি সড়কে ঢুকে, তাহলে ওভারটেক করতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ে। এ কারণে যান চলাচল আগের তুলনায় অনেকটা কমে গেছে।
কয়েক বছর ধরে সড়কটি বেহাল, এ কারণে জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করেন নবীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মীর সাব্বির আহমদ। গত সোমবার তিনি সমকালকে বলেন, বরাদ্দ না পাওয়ায় সড়কটির সংস্কারকাজ সম্ভব হচ্ছে না। গত জুনে বিষয়টি জানিয়ে ঢাকায় চিঠি দিয়েছেন। এখনও উত্তর আসেনি। সড়কের বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফাইল দেখে বলতে হবে। তবে সর্বশেষ তিন বছর আগে এখানে সংস্কার কাজ হয়েছিল বলে জানান।

আরও পড়ুন

×