অস্ত্র ছিল না, তবু অস্ত্র আইনের মামলায় গ্রেপ্তার
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) বিরুদ্ধে দুই যুবককে তুলে নিয়ে অস্ত্র দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের এমএ রাজ্জাক মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য দেন ভুক্তভোগীদের স্বজনরা। তবে জেলা ডিবির ওসি এসব অস্বীকার করেছেন।
গত মঙ্গলবার সদর উপজেলার দূর্বাচারা বাজার থেকে ডিবি দূর্বাচারা গ্রামের আব্দুল্লাহ (৩২) ও কুমারখালী উপজেলার শালঘর মধুয়া গ্রামের আরিফুল ইসলাম আরিফকে (৩৫) ধরে নিয়ে যায়। পরে তাদের অস্ত্র আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
ডিবির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আরিফের বিরুদ্ধে মাদক ও শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা আছে। তিনি আগে এসআরবির (প্রাক্তন র্যাব) হাতে কয়েকবার আটক হয়েছেন। তবে আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে আরিফুল ইসলাম আরিফের ভাগনি মিথিলা খাতুন অভিযোগ করেন, ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) রকিব উদ্দিন জনির নেতৃত্বে দূর্বাচারা বাজারে গত মঙ্গলবার শত শত মানুষের সামনে থেকে আব্দুল্লাহকে তুলে নেওয়া হয়। একই কায়দায় আরিফকেও আটক করে তারা। আটকের সময় দুজনের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। বাজারে উপস্থিত জনসাধারণের বাধার মুখেও পুলিশ কোনো অস্ত্র দেখাতে পারেনি। এর ভিডিও ফুটেজও তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।
মিথিলা জানান, দূর্বাচারা গ্রামের শীর্ষ চরমপন্থি সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর কবির লিটন ও দরবেশপুর গ্রামের টাইগার মামুনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের শত্রুতা চলছে। এই দুজনের ইন্ধনে ডিবি পুলিশ আরিফ ও আব্দুল্লাহকে বাজার থেকে তুলে নেয়। পরে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজিয়েছে।
বিগত সরকারের আমলেও র্যাবের (এখন এসআরবি) সাবেক প্রধানের সঙ্গে সাখ্যের দাপট দেখিয়ে লিপটন ও টাইগার মামুন এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন জানিয়ে মিথিলা বলেন, তারা মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করত। টাকা না দিলে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দিত। বর্তমানেও এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা জামিনে ছাড়া পেয়ে আত্মগোপনে আছেন। কিন্তু প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় আব্দুল্লাহর স্ত্রীসহ দুই পরিবারের সদস্য ও এলাকার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাদের অভিযোগের বিষয়ে জেলা ডিবির ওসি মোহাম্মদ ফারুক উল গতকাল সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, পরিবার দুটির অভিযোগ ভিত্তিহীন। পুলিশের বিরুদ্ধে তোলা কোনো অভিযোগ ঠিক নয়।
- বিষয় :
- গ্রেপ্তার