জমি নিয়ে বিরোধ
কুড়িগ্রামে সাংবাদিকের মা-বাবাকে পেটাল ৫ জন, থানায় মামলা
মো. আমিনুল ইসলাম
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৩৮
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন ও দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকার প্রতিনিধি তামজিদ হাসান তুরাগের মা-বাবাকে মারধর, শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা ও নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পাঁচজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় সাংবাদিকের পিতা আহত মো. আমিনুল ইসলাম কুড়িগ্রাম সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবারটির অভিযোগ, গত ৫ অক্টোবর কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার পলাশবাড়ী কবিরাজপাড়া এলাকায় নিজ জমি দেখতে গেলে রমজান আলীসহ ৫ ব্যক্তি তাদের মারধর করে।
ঘটনার দিনই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করে ভুক্তভোগীর পরিবার। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার ৪ দশমিক ১৬ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ওই জমি আমিনুল ইসলাম ক্রয়সূত্রে পাওয়ার পর প্রায় ৩৪ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। জমিটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। এ নিয়ে কুড়িগ্রাম সদর সিভিল জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলাও চলমান রয়েছে।
সর্বশেষ গত সোমবার দুপুর ২টার দিকে তামজিদ হাসানের বাবা-মা তাদের কেনা জমিতে গাছের চারা রোপণ করতে যান। এ সময় আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া অভিযুক্তরা তাদের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ তুলেছেন তারা।
এজাহারে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে রমজান আলী বাঁশের লাঠি দিয়ে আমিনুল ইসলামের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। তিনি মাথা সরিয়ে নিলে আঘাতটি তার ডান চোখের নিচে লাগে। এতে ওই স্থানে কালো ও ফোলা জখম হয়। এরপর কয়েকজন আসামি লোহার রড দিয়ে আমিনুল ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। একপর্যায়ে এক অভিযুক্ত তার বুকের ওপর বসে দুই হাত দিয়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় শামসাদ বেগম এগিয়ে এসে তাকে সরিয়ে দিলে আমিনুল ইসলাম রক্ষা পান।
এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত এক নারী শামসাদ বেগমের চুলের মুঠি ধরে টানাটানি করেন এবং রমজান আলী তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এ সময় চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারটিকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। গুরুতর আহত আমিনুল ইসলামকে স্থানীয় লোকজন অটোরিকশায় করে কুড়িগ্রাম সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার স্ত্রী শামসাদ বেগম স্থানীয় পল্লিচিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ বিষয়ে তামজিদ হাসান বলেন, ‘বিবদমান জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন। আমার বাবা-মা আমাদের কেনা জমিতে চারা রোপণ করতে যান। সেখানে বিবাদীরা আদালতের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। তারা আমার বাবা-মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। আমি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’
এবিষয়ে অভিযুক্ত রমজান আলী বলেন, ‘মারধরের বিষয়টি সম্পূর্ন মিথ্যা। আমার বাসা বানিয়া পাড়া, তার বাসা কবিরাজ পাড়ায়। জমিজমা নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। আমরা ওই জমির দুইটা রায় পাইছি। জমি দেখতে গেলেই বাগ্বিতণ্ডা হয়।’
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে। বিবাদীপক্ষও আরেকটি মামলা দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’