ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি
ছবি- ভিডিও থেকে নেওয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:০৮ | আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৩১
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে দুই দিন বয়সী এক নবজাতককে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নবজাতকটি বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা গ্রামের রাজমিস্ত্রি শামীম মিয়া ও মরিয়ম দম্পতির প্রথম সন্তান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রসবব্যথা নিয়ে গত সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি হন মরিয়ম। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে তিনি একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। বিয়ের তিন বছর পর প্রথম সন্তান হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দ ছিল।
পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেলে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী অন্য রোগীর স্বজন পরিচয়ে মরিয়ম ও তার মা মমতাজ বেগমের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে নবজাতকের নানী টয়লেটে গেলে মরিয়মের পেটে ব্যথা অনুভূত হয়। এ সময় সহযোগিতার কথা বলে ওই নারী শিশুটিকে কোলে নেন। পরে ওয়ার্ডের গেটের দিকে চলে যান। মরিয়ম তাকে কক্ষে ফিরে আসতে বললেও মুহূর্তের মধ্যে ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তারা তদন্ত শুরু করেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে ওই নারীকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে।
নবজাতকের মা মরিয়ম বেগম বলেন, বিয়ের তিন বছর পর আমার প্রথম পুত্রসন্তান হয়েছে। ওই নারী প্রতারণা করে আমার শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে গেছে। আল্লাহ জানেন, আমার মানিক কেমন আছে। আমি আমার বুকের ধনকে ফেরত চাই। সরকার ও পুলিশ যেন দ্রুত আমার সন্তানকে উদ্ধার করে আমার কোলে ফিরিয়ে দেয়।
শিশুটির বাবা শামীম মিয়া বলেন, আমি আমার সন্তানকে ফেরত চাই। সরকারি হাসপাতাল থেকে এভাবে শিশু চুরি হয়ে যাবে, এটা কীভাবে হয়? এখানে নিরাপত্তা কোথায়? পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, যেন দ্রুত আমার সন্তানকে ফেরত পাই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী জানান, হাসপাতালে রোগী ও তাদের স্বজনদের অতিরিক্ত ভিড় থাকে। শিশু চুরির খবর তারা পেয়েছেন। তার ভাষ্য, স্বজনদের অসচেতনতার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। হাসপাতালের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকলে সুবিধা হতো। সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং সেগুলো পরিবর্তন করে নতুন ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাইরুল আলম বলেন, খবর পেয়ে নবজাতকের পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
- বিষয় :
- নবজাতক চুরি