বাল্লা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে নৌযান চলাচল বন্ধের শঙ্কা
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নে বাল্লা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু সমকাল
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাঞ্ছারামপুরে বাল্লা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আগের সেতু ভেঙে একই স্থানে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে বর্ষাকালে নদীপথে নৌযান চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নতুন সেতুর নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণের আগে নদীপথের বাস্তব ব্যবহার এবং বর্ষা মৌসুমে পণ্যবাহী নৌযান চলাচলের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। সেতুটির কারণে বাল্লা নদীসংলগ্ন চার ইউনিয়নের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষের ভোগান্তিতে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের তথ্যমতে, ছলিমাবাদ ইউনিয়নের একরামপুর ও ভুরভুরিয়া গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতে বাল্লা নদীর ওপর ৬৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। যার চুক্তিমূল্য চার কোটি ৭১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ২৭ মে, কাজটি চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে হাসান বি-বাড়িয়া এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিন দেখা গেছে, নদীর পানি থেকে সেতুটির উচ্চতা অনেক কম। শরতের শেষ দিকে এই অবস্থা হলে পুরো বর্ষায় পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ফরদাবাদ এলাকার বাসিন্দা স্বপন মিয়া জানান, সেতু তাদের প্রয়োজন, কিন্তু এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে যাতে সেতু হওয়ার কারণে নদীপথ বন্ধ না হয়ে যায়। প্রকল্প নেওয়ার আগে নৌযান চলাচল, নদীর পানি ও বর্ষাকালের পরিস্থিতি সঠিকভাবে জরিপ করা হয়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি মির্জা খোকন জানান, এই সেতুর নিচ দিয়ে পণ্যবাহী ও বালুবাহী নৌকা চলাচল করতে পারবে না। তবে ছোট ছোট নৌকা চলতে পারবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঞ্ছারামপুর অঞ্চলের দায়িত্বরত উপসহকারী প্রকৌশলী হৃদয় চন্দ্র পাল জানান, স্বাভাবিক বর্ষায় নৌযান চলাচলের জন্য সেতুর নিচে নেভিগেশন ন্যূনতম তিন মিটার থাকতে হবে। এই সময়ে যদি এক মিটার থেকে থাকে এই নেভিগেশন দিয়ে নৌযান চলাচল কোনোভাবেই সম্ভব না। বিশেষ করে পণ্যবাহী নৌকাগুলোর জন্য সেতুর নিচে ন্যূনতম তিন মিটার নেভিগেশন থাকতে হয়, এটা একটা বড় ত্রুটি। এবারের বর্ষায় নির্মাণাধীন সেতু এলাকায় শুষ্ক মৌসুমের চেয়ে ৩ দশমিক ২২ মিটার পানির উচ্চতা বেড়েছিল।
এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম বলেন, ‘একরামপুর-ভুরভুরিয়া সেতুটির নিচে এবারের বর্ষায় এক মিটারের মতো নেভিগেশন ছিল। এক মিটার উচ্চতা দিয়ে পণ্যবাহী নৌকা আসা-যাওয়া করতে পারবে না এটা ঠিক। কিন্তু এটা আমার আসার আগে হয়েছে।’
এলজিইডির বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রকৌশলী ফজলে রাব্বির ভাষ্য, একরামপুরে নির্মাণাধীন সেতুটি তিনি এখানে যোগদানের আগেই সার্ভে ও প্রাক্কলন পাঠানো হয়েছিল। এই সেতুর নিচ দিয়ে বড় পণ্যবাহী নৌকা চলাচল করার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। যারা সার্ভে করেছেন তারা হয়তো ভেবেছেন ছোট নৌকা যাতায়াত করে। এই কারণে হয়তো সেতুর নিচে নৌপথ এভাবে দিয়েছে।
- বিষয় :
- সেতু