মেধার লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন কিশোরগঞ্জের সরযূ বালা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:৫০ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:৫০
মেধার লড়াইয়ে উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল শ্বাসরুদ্ধকর বাগ্যুদ্ধ। চৌকস শিক্ষকরা শ্রম আর মেধার সংমিশ্রণে যুক্তির পাথরে ঘষে শানিয়ে দিয়েছিলেন তাদের প্রিয় শিক্ষার্থীদের। আর সেই পুঁজি নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিতর্কে লিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়েছে। এ কোনো পেশির লড়াই নয়, ছিল মেধার লড়াই, মগজের লড়াই। আর তাই; সেই লড়াই যেন জ্ঞান জগতের আলোকচ্ছটা ছড়িয়ে দিয়েছিল উপস্থিত বিচারকসহ শ্রোতাদের মনে।
আজ শনিবার কিশোরগঞ্জে ছিল ১২তম বিএফএফ-সমকাল জাতীয় স্কুল বিজ্ঞান বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬। শহরের সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পৌর মহিলা কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গত বছরের চ্যাম্পিয়ন সরযূ বালা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় দল। আর রানার্সআপ হয়েছে গত বছরের রানার্সআপ জেলা স্মরণী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় দল। সকাল ১০টায় বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক (অব.) মো. আব্দুল গণি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা সমকাল সুহৃদ সমাবেশের সহ-সভাপতি আতিয়া হোসেন, সঞ্চালনা করেন সুহৃদ সমাবেশের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহাম্মদ। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সমকাল জেলা প্রতিনিধি মোস্তফা কামাল।
অংশগ্রহণকারী অন্য ছয়টি বিদ্যালয় ছিল কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়, আইডিয়াল স্কুল কিশোরগঞ্জ ও হয়নতনগর এইউ কামিল মাদ্রাসা।
সেরা বক্তা হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন দলের দলনেতা আমাতুল্লাহ খাইরুম। চ্যাম্পিয়ন দলের অপর দুই সদস্য ছিলেন অহনা আহমেদ তানহা ও রায়হানা হাসান সোহা।
বক্তব্যে প্রধান অতিথি আব্দুল গণি বলেন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা করতে হলে জ্ঞান জগতের নানা শাখায় বিচরণ করতে হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের নানামুখি প্রতিভার জানালাগুলো খুলতে থাকে। এর ফল হিসেবে নানামুখি দক্ষতারও উন্মেষ ঘটে। আর এসব শিক্ষার্থীরা তাদের শ্রেণি কার্যক্রমেও ভালো করে। তিনি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিটি দলকে অভিনন্দন জানান। আর আগামীতেও এই চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিতর্ক উৎসবে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পৌর মহিলা কলেজ ও হোসেনপুর সরকারি কলেজের শিক্ষকরা।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ২৪ জন বিতার্কিককেই সনদ প্রদান করা হয়। আর ফাইনাল রাউন্ড শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলকে নির্ধারিত ক্রেস্ট, সেরা বক্তার ক্রেস্ট ও প্রত্যেককে একটি করে বিতর্ক প্রতিযোগিতার লগোসম্পন্ন টি-শার্ট উপহার দেওয়া হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গণি বিতার্কিকদের যুক্তি, পাল্টা যুক্তির কথামালায় মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, আজকের তথ্য প্রযুক্তির যুগে যেমন বিতর্কে নতুন নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে, তেমনি বিতর্কের সৌন্দর্যও অনেক বেড়েছে। ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য নিজেদেরকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিতর্ক প্রতিযোগিতার একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। পরীক্ষার খাতায় বিতর্কের কোনো নম্বর যোগ না হলেও জীবনের খাতায় এর নম্বর যোগ হবেই।
- বিষয় :
- কিশোরগঞ্জ