চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন
ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চার্জ কাটা ও অর্ডারের টাকা দিতে সময় ক্ষেপণের অভিযোগ
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ছবি: সমকাল
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:২৮ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৪৬
ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে নানা অজুহাতে অতিরিক্ত চার্জ কাটা ও অর্ডারের টাকা দিতে ১৩ দিন সময় নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকেরা। তারা অর্ডারের টাকা সাত দিনের মধ্যে পরিশোধ ও অতিরিক্ত চার্জ কাটা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় চট্টগ্রামে ফুডপান্ডার অর্ডার নেওয়া একযোগে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানা।
আজ শনিবার বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি জানান নেতারা। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনটির সভাপতি মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন নওশাদ ও সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক। চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, কমিশনের বাইরে নানা ধরনের চার্জ, জটিল হিসাব, অর্ডার বাতিলের লোকসান, অপেক্ষার মাশুল, একতরফা জরিমানা ও রিফান্ডের নামে টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অনলাইনে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে। রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, বিক্রির টাকা পেতেও ১৩ দিন বা তার বেশি সময় লাগছে। এতে একদিকে বাড়ছে ব্যবসার খরচ, অন্যদিকে সংকুচিত হচ্ছে মুনাফা। এমন পরিস্থিতিতে ফুডপান্ডার একতরফা ও অস্বচ্ছ ব্যাবসায়িক নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, কমিশনসহ সব ধরনের চার্জ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। অন্যথায় চট্টগ্রাম মহানগরের রেস্তোরাঁগুলোতে ফুডপান্ডার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে অর্ডার গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে মালিকরা অভিযোগ করেন, প্রযুক্তির বিরোধিতা করছেন না তারা। বরং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাবসায়িক ব্যবস্থায় ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা চান। কিন্তু ফুডপান্ডার বর্তমান নীতিতে রেস্তোরাঁ মালিকদের ওপর একের পর এক আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে ব্যাবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে রেস্তোরাঁর কর্মচারী ও তাদের পরিবারের ওপরও। ফুডপান্ডার সঙ্গে চুক্তিতে নির্ধারিত কমিশনের বাইরেও অনলাইন পেমেন্ট চার্জ, অপেক্ষার মাশুল, কমিশনের ওপর মূল্য সংযোজন কর(ভ্যাট), ট্যাব ফি ও ইন্টারনেট ফিসহ বিভিন্ন খাতে টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে কাগজে-কলমে বিক্রি ভালো দেখালেও সব খরচ বাদ দিয়ে হাতে থাকছে সামান্য অর্থ। এসব চার্জের বিস্তারিত হিসাবও সহজে বোঝা যায় না। মাস শেষে ফুডপান্ডার পাঠানো হিসাব এতটাই জটিল যেকোনো খাতে কত টাকা কাটা হয়েছে, তা বুঝতে হিমশিম খেতে হয়। হিসাবের খাত ও কর্তনের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।
রেস্তোরাঁ মালিকরা বলেন, ফুডপান্ডার প্রযুক্তিগত সমস্যা কিংবা খাবার সরবরাহের ব্যবস্থাপনায় জটিলতার কারণে অর্ডার বাতিল হলেও এর আর্থিক দায় নিতে হয় রেস্তোরাঁ মালিকদের। একটি অর্ডার পাওয়ার পর খাবার তৈরিতে কাঁচামাল, শ্রম ও সময় ব্যয় হয়। কিন্তু খাবার তৈরি হয়ে যাওয়ার পর অর্ডার বাতিল হলে সেই খাবার অন্য গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা সব সময় সম্ভব হয় না। এতে খাবারের পুরো খরচই লোকসানে পরিণত হতে পারে।
ফুডপান্ডার বিবৃতি
নিবন্ধিত করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফুডপান্ডা প্রতিটি রেস্তোরাঁর সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করে। বাণিজ্যিক শর্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো তৃতীয় পক্ষের সংগঠনের মাধ্যমে আলোচনা না করে সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে জানায়, চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয় ও যৌক্তিক উদ্বেগের সমাধানের জন্য আমরা রেস্তোরাঁ অংশীদারদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রেস্তোরাঁ অংশীদারদের সঙ্গে আমাদের চুক্তিগুলো পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সম্পাদিত হয়। পারস্পরিক আস্থাই এসব অংশীদারত্বের মূল ভিত্তি এবং একইসঙ্গে একটি সফল ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা মনে করি, ফুডপ্যান্ডার সেবা বন্ধ থাকলে রেস্তোরাঁগুলোর বিক্রি কমবে, পাশাপাশি রাইডারদের আয় কমে যাবে এবং ভোগান্তিতে পড়বেন সাধারণ গ্রাহকেরা। তাই, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে এ পরিস্থিতির ইতিবাচক সমাধান করতে ফুডপ্যান্ডা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম