বন্যহাতির সুরক্ষায় ভারতের সঙ্গে শিগগিরই সংলাপ শুরু হবে: পরিবেশমন্ত্রী
নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্কে মতবিনিময় সভায় কথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টু। ছবি: সমকাল
শেরপুর ও নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:৪১ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৫৫
শেরপুরের গারো পাহাড়ের বন্যহাতির সুরক্ষায় শিগগিরই ভারতের সঙ্গে সংলাপ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টু। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ায় থাকা গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে।
আজ শনিবার নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসন ও বন্যহাতি সংরক্ষণবিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, মেঘালয় থেকে আসা প্রায় ১৩০ থেকে ১৩৫টি বন্যহাতি সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কারণে নিজ দেশে ফিরতে পারছে না। হাতিগুলো শেরপুরের গারো পাহাড় এলাকায় আটকা পড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শেরপুরের বনভূমিকে বন্যহাতির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আবদুল আওয়াল মিন্টু বলেন, শেরপুরের গারো পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য ও বন্যহাতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে পর্যটনের হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি বন্যহাতি সংরক্ষণ এবং মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব নিরসন সম্ভব হবে।
এই সভা আয়োজন করে শেরপুর জেলা প্রশাসন ও ময়মনসিংহ বন বিভাগ। এতে অংশ নেন জেলার হাতি অধ্যুষিত এলাকার সংসদ সদস্য, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি), গণমাধ্যমকর্মী এবং হাতি সংরক্ষণে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবীরা। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী, প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী, বন সংরক্ষক (বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল) ছানাউল্যা পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক এ এস এম জহির উদ্দিন আকন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম ও পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম।
সভায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্থ ৫০ জনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১০টি ইআরটি দলের সদস্যদের মধ্যে উপকরণ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
সভা শেষে মন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টু অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে মধুটিলা ইকোপার্কের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। পরে তিনি ইআরটি সদস্য ও স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার পাহাড়ি জনপদে বন্যহাতির বিচরণক্ষেত্র ঘুরে দেখেন। এরপর ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে একই বিষয়ে আরেকটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- শেরপুর