হাজিরা খাতায় সই থাকলেও বিদ্যালয়ে নেই তিন শিক্ষক
ছবি: সমকাল
মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:০৪
কিশোরগঞ্জের ইটনার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে ছয় শিক্ষকের মধ্যে তিনজনকে উপস্থিত পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর। যদিও অনুপস্থিত তিন শিক্ষকই হাজিরা খাতায় নিজেদের সই করে রেখেছেন। আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের সহিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখেন তিনি।
পরিদর্শন বইয়ে ইউএনওর লেখা পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের হাজিরা রেজিস্টারে প্রধান শিক্ষকসহ ছয়জন শিক্ষকের সই ছিল। তবে সরেজমিন পরিদর্শনের সময় তাদের মধ্যে মাত্র তিনজনকে উপস্থিত পান। বিনা অনুমতিতে ও ছুটির আবেদন ছাড়াই অন্য শিক্ষকরা অনুপস্থিত ছিলেন।
অনুপস্থিত শিক্ষকরা হলেন– বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক, সহকারী শিক্ষক আনোয়ারা পারভীন ও সহকারী শিক্ষক সজল। তাদের হাজিরা খাতায় আগাম সই ও অনুপস্থিতির বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে না জানানোর কারণ লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য সহকারী শিক্ষক আনোয়ারা পারভীন ও সজলের মোবাইল ফোন নম্বরে কল দিয়েও সংযোগ মেলেনি। প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হকের নম্বরে কল দিলে তিনি কিশোরগঞ্জে অবস্থান করছেন বলে স্বীকার করেন। হাজিরা খাতায় সই কীভাবে দিয়েছেন জানতে চাইলে দাবি করেন, সকালে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চলে গেছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম মো. এহছানুল হক বলেন, তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় উপস্থিতির সই দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনও মাখন চন্দ্র সূত্রধরের ভাষ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা ও মানসম্মত পাঠদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিদর্শনে উঠে আসা এই চিত্র বিদ্যালয়ের তদারকি ও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। তাদের লিখিতভাবে জবাব দেওয়ার জন্য সাতদিন সময় দেওয়া হয়েছে।