বিমানবন্দর সড়কে ‘নরক-যন্ত্রণা’
বড় গর্ত পড়লেই কাত হয়ে পড়ে যানবাহন। কখনও যায় আটকে। তখন নামতে বাধ্য হন যাত্রীরা। সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরীর বিমানবন্দর সড়কের সল্টগোলা এলাকায়। ছবি: সমকাল
সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৩১
নিমতলা মোড়ের সামান্য দক্ষিণ-পশ্চিমে চট্টগ্রাম বন্দর ভবন ও কাস্টম হাউস। মুখোমুখি ভবন দুটিতে গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রতিদিন হাজারো মানুষের আসা-যাওয়া। এই দুই ভবন থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমমুখী সড়কটির নাম বিমানবন্দর সড়ক। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের পাঁচ কিলোমিটার স্থানীয় লোকজনের ভাষায় ‘ফুলসিরাত’। ছোট-বড় শতাধিক গর্ত আছে এই অংশে। কখনও পথচারী, কখনও গাড়ির যাত্রী এসব গর্তে পড়ে আহত হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে গাড়ির মূল্যবান যন্ত্রাংশও।
সম্প্রতি সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। সড়কের সল্টগোলা ক্রসিংয়ে অবস্থিত মেসার্স হাজী সালাম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ। সেখানেই কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা সরাফত আলীর সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘কেয়ামতের সময় ফুলসিরাত পার হইতে যত কষ্ট, এই সড়ক দিয়ে বাসায় ফেরাটাও তেমন কষ্ট। অথচ এই সড়কে প্রতিদিন সহস্রাধিক গাড়ি চলাচল করে। আসা-যাওয়া করে লাখখানেক মানুষ। কিন্তু দেখার কেউ নেই। এই রাস্তার কোনো মা-বাপ নাই।’
তাঁর কথা ধরেই পাশে দাঁড়ানো ভিক্ষুক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আগে সল্টগোলা মোড়ে ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন তিনি। ছয় মাস ধরে এখানে বসেন না। ভিক্ষাও দেন না কেউ। রাস্তার কারণে সবার মেজাজ খারাপ থাকে। তাই বসেন ইপিজেড মোড়ে।
মোহাম্মদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই সড়কে এলো যাত্রীবাহী একটি বাস। সামনে লেখা ‘হাসান পরিবহন’। নীল রঙের বাসটি নিয়ে খুব সাবধানে চালক পাড়ি দিচ্ছিলেন একটি বড় গর্ত। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। গর্তে পড়ে দেবে যায় বাসটি। যাত্রীদের সবাই ছিলেন গার্মেন্টস কর্মী। সবাইকে নামতে বললেন চালকের সহকারী করিম। গর্তে জমে থাকা পানির মধ্যেই নামতে হয় সব যাত্রীকে।
শুধু সল্টগোলা ক্রসিং মোড় নয়; সড়কটির অন্তত পাঁচ কিলোমিটারেই নরক-যন্ত্রণার মুখোমুখি হচ্ছেন যাত্রীরা। বিজিএমইএ হাসপাতালের সামনের পয়েন্টেও গর্তে জমে থাকা পানিতে নষ্ট হতে দেখা যায় একটি গাড়ির যন্ত্রাংশ। সাদা রঙের একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় এখানে দুর্ঘটনায় পড়ে।
সল্টগোলা থেকে ইপিজেড পর্যন্ত অংশে এমন ভয়াবহ যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের। ইপিজেডের পর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত অংশটি তুলনামূলক ভালো। চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য পয়েন্টের সড়কও পিচঢালা। টাইগারপাস থেকে বহদ্দারহাট ও নিউমার্কেটগামী সড়কে তেমন কোনো গর্ত চোখে পড়েনি। হালিশহরগামী সড়কে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ির কারণে কিছু সমস্যা থাকলেও বড় গর্ত দেখা যায়নি।
বেশি যন্ত্রণা নগরবাসীকে পোহাতে হয় বিমানবন্দরগামী সড়কটিতে। এই সড়কের নিউ ডি. এক্সপ্রেস কাউন্টারের সামনেও দেখা যায় বড় বড় গর্ত। এসব গর্তে পানি জমে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। সেখানে কথা হয় রোকেয়া বেগমের সঙ্গে। সন্তানকে নিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দোয়া-দরুদ পড়তে পড়তে সড়ক পাড়ি দিই। এটা দ্রুত সংস্কার করা দরকার। তা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণ যাবে অনেকের।’
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ভাষ্য, এবারের বর্ষায় স্মরণকালের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে। এজন্য নগরীর প্রায় ২০০ কিলোমিটার সড়কের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। নগরীকে ছয়টি জোনে ভাগ করে সিটি করপোরেশন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত করছে। তিনি বলেন, কিছু সড়ক এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভার নির্মাণজনিত কারণে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিমানবন্দরগামী সড়কটিও একবার মেরামত করা হয়েছিল। এটি মেরামত করার কথা চট্টগ্রাম উন্নয়ন করোপেশনের (সিডিএ)।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম