ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মা ইলিশ সংরক্ষণ

অভিযানের খবর পেয়ে আগেই সটকে পড়েন মৌসুমি জেলেরা

অভিযানের খবর পেয়ে আগেই সটকে পড়েন মৌসুমি জেলেরা
×
×

ছবি: সংগৃহীত

শিবালয় (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:১৬

যমুনা নদীতে মা ইলিশ শিকার বন্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার কারেন্ট জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল রোববার পর্যন্ত চার দিন শিবালয় উপজেলার তেওতা, পাটুরিয়া ও জাফরগঞ্জ এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে জাল ফেলে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে পালিয়ে যান মৌসুমি জেলেরা। গতকাল মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে কোস্টগার্ডের সদস্যদের সহযোগিতায় অভিযান চালানো হয়েছে।

ফারুক হোসেন নামে একজন মৌসুমি জেলে জানান, প্রশাসনের লোকজন অভিযানে আসার আগেই সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে যান তারা। এই কারণে তাদের ধরতে পারে না। মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থেকে শিবালয় উপজেলার নয়াকান্দি পর্যন্ত যমুনা নদীর ১০ কিলোমিটারে প্রায় তিন হাজার মৌসুমি জেলে মা ইলিশ শিকার করেন। নিষিদ্ধ সময়ে শিকার করা ইলিশ মাছ নদীর তীরবর্তী এলাকার হাটবাজারেই বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া কতিপয় মাছ ব্যবসায়ী তাদের কাছ থেকে কম দামে কিনে নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে বেশি দামে বিক্রি করেন। তবে সোর্সদের পরিচয় জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

আমজাদ হোসেন নামে আরেকজন মৌসুমি জেলের ভাষ্য, এখনও নদীতে তেমন মা ইলিশ আসা শুরু হয়নি। তবে আগামী এক সপ্তাহের মাধ্যে ব্যাপকভাবে মা ইলিশ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মৌসুমি জেলেদের কেউ আটক হলে প্রশাসনের কাছ থেকে কিছু জরিমানা দিয়ে ছাড়িয়ে আনার মতো লোকজন আমরা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছি। প্রতিজন মৌসুমি জেলেকে প্রশাসনের কাছে থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য ওই দালালদের পাঁচ হাজার টাকা করে দিতে হবে। তারা প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে অল্প কিছু টাকা জরিমানা দিয়ে ছাড়িয়ে দেবেন বলে দালালদের সঙ্গে মৌখিক চুক্তি করা হয়েছে।’ তবে দালালদের পরিচয়সহ বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি তিনি।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, চার দিন ধরে মৎস্য কর্মকর্তারা কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করছেন। এভাবে অভিযান চালালে বেশির ভাগ মৌসুমি জেলে নদীতে নামতে পারবেন না। এতে মা ইলিশ রক্ষা পাবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগী বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রসাশনকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। তারা অভিযানে গেলে মৌসুমি জেলেরা তাদের ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ছেন। এ কারণে এখনও কোনো মৌসুমি জেলেকে আটক করা যায়নি। তবে নদী থেকে কোনো মৌসুমি জেলেকে আটক করতে পারলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানা করা হবে। কারও সুপারিশে কোনো মৌসুমি জেলেকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তবে এখনও মা ইলিশ আসা পুরোপুরি শুরু হয়নি। বর্তমানে মৌসুমি জেলেদের আনাগোনা কম দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল সহযোগিতা করলে এবার মৌসুমি জেলেদের নদীতে নামতে দেওয়া হবে না। কেউ নদীতে মাছ ধরতে নামলে আটক করে জেল দেওয়া হবে।

দালালদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আটক জেলেদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি গত বছর মৎস্য অভিযানের সময় শিবালয় উপজেলায় ছিলাম না। এ কারণে বিষয়টি আমার ভালো জানা নেই। গত বছর এ রকম ঘটনা ঘটে থাকলেও এবার তা করতে দেওয়া হবে না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা রানী কর্মকার বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে কেউ মাছ ধরতে গিয়ে আটক হলে তাঁকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করা হবে। কারও কোনো সুপারিশে পার পাবে না।

গত বছর অভিযানের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  (ইউএনও) মনীষা রানী কর্মকার ও শিবালয় থানার ওসি আমিনুল ইসলামও এই উপজেলায় ছিলেন না। দালালদের মাধ্যমে টাকা নিয়ে আটক জেলেদের ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে তারাও কিছু জানেন না বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

×