রাজশাহীতে সার ডিলার নিয়োগে ‘সংকেতপূর্ণ টিক’, বাদ প্রকৃত ব্যবসায়ীরা
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৪৫
রাজশাহীতে নতুন ৬৯ জন সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। তালিকা বিশ্লেষণ ও মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী কিংবা তাদের পরিবারের সদস্য। তালিকায় বিএনপি নেতাদের স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও ভাইয়ের নাম রয়েছে। একজন জামায়াতকর্মীও ডিলারশিপ পেয়েছেন। এসব নিয়োগে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
চারঘাট, বাঘা, তানোর, পুঠিয়া, মোহনপুর, পবা, গোদাগাড়ী ও দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরা ডিলারশিপ পেয়েছেন। চারঘাট সদর ইউনিয়নে ডিলার হয়েছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বুলবুল হোসেনের স্ত্রী জিনিয়া পারভিন। সরদহ ইউনিয়নে ডিলারশিপ পেয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেনের স্ত্রী ইসরাত জাহান। ইউসুফপুর ইউনিয়নে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবিনের স্ত্রী সুরভি আক্তার শিখা।
তানোর, পুঠিয়া, পবা ও দুর্গাপুরেও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সন্তান, স্ত্রী, ভাই ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের ডিলারশিপ পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজশাহীর এক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিটি এলাকার জন্য তিনজনের নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও পছন্দের প্রার্থীর নাম তালিকার প্রথমে রাখা হতো। সংসদ সদস্যদের দেওয়া তালিকা থেকেই অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগ হয়েছে। এতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বাদ পড়েছেন।
অন্যদিকে, বাগমারার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার ডিলার নিয়োগ আটকে দিয়েছেন রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল বারী। তার অভিযোগ, সেখানে দলীয় ব্যক্তিদের ডিলার নিয়োগের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে কৃষি সচিব ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠিও দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তিন সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও কৃষি বিভাগের উপপরিচালকের উপস্থিতিতে এক গোপন বৈঠকে নিয়োগের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। পরে তা কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, উপজেলা থেকে যাচাই-বাছাই করে পাঠানো তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। মন্ত্রণালয় নিয়োগ চূড়ান্ত করেছে। অনিয়মের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, তিন সংসদ সদস্যের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী নিয়োগ হয়েছে। তিনজনের নাম পাঠানো হলেও তালিকায় সংকেতপূর্ণ টিক চিহ্ন দেওয়া ছিল। ফলে অন্য প্রার্থীদের সুযোগ কার্যত সীমিত হয়ে পড়ে।
নিয়োগ বাতিলের দাবিতে নাটোরে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিয়োগে বঞ্চিত আবেদনকারী এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। একই দাবিতে নাটোরের লালপুরের কদিমচিলান ইউনিয়নে সংবাদ সম্মেলন করেন নিয়োগে বঞ্চিত আবেদনকারী আব্দুল হান্নান।