হাম উপসর্গ নিয়ে এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৪৬ জন
হবিগঞ্জে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। গতকাল সোমবার তোলা সমকাল
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জে হামের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১১৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন। বর্তমানে হাসপাতালে হাম ওয়ার্ডে শয্যার চেয়ে প্রায় ছয় গুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন। দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে (১২ অক্টোবর) সোমবার পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মোট ৩ হাজার ৯৮৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৭৬১ জন। গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হয়েছে ১০৩ জনকে। হঠাৎ করে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। হাম ওয়ার্ডে শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকেই বাধ্য হয়ে মেঝে ও সিঁড়িতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ– প্রতিদিনই হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত মানুষ হাসপাতালে এসে ভর্তি হচ্ছে। অথচ মাত্র ২০টি শয্যা রয়েছে হাসপাতালে। যে কারণে রোগীদের গাদাগাদি করে মেঝে ও সিঁড়িতে থাকতে হচ্ছে। প্রয়োজন মতো চিকিৎসক ও নার্সদের সেবা পাচ্ছেন না তারা।
তারা কোনো কিছু হলেই বাইর থেকে ওষুধ কিনে আনতে বলেন। একবারের জায়গায় নার্সদের কাছে দুইবার কোনো কিছু বুঝতে গেলে তারা কর্ণপাত করে না। অনেক নার্সই আবার রোগীদের সঙ্গে অশুভ আচরণ করেন।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নোয়াখাল চরগাঁও গ্রামের লাভলী আক্তার নামের এক গৃহবধূ জানান, তাঁর শিশুসন্তানকে নিয়ে গত চার দিন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তবে এখনও তিনি শয্যা পাননি। তাই মেঝেতেই চিকিৎসা চলছে। তবে কীভাবে তাঁর সন্তান হামে আক্রান্ত হয়েছে, তা তিনি বলতে পারেননি। লাখাই উপজেলার সিংহগ্রামের বিলকিস আক্তার জানান, তিনি তাঁর দুই বছরের সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিনি বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে প্রচুর রোগী আসার কারণে চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটছে। সময়মতো চিকিৎসক ও নার্স পাওয়া যায় না। এ ছাড়া হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না, সব ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বানিয়াচং উপজেলা সদরের মজলিসপুর গ্রামের ফরহাদ মিয়া বলেন, হাম ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগী থাকায় তাঁর এক আত্মীয়কে নিয়ে কষ্ট করে মেঝেতে আছেন। অপরিচ্ছন্ন ওয়ার্ডের ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে গাদাগাদি করে রোগী ও তাদের স্বজন থাকতে বাধ্য হচ্ছে। হাসপাতালের এমন পরিবেশে সুস্থ মানুষ রোগী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। ওয়ার্ডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বেশির ভাগ রোগী মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হবিগঞ্জে হামের প্রকোপ বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আমিনুল হক সরকার বলেন, আমরা সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে জনবলের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় তা হয়ে উঠে না। তিনি জানান, হাম প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
- বিষয় :
- হাম