দেড় লাখ টাকার চেক পেয়ে ২৭ ঘণ্টা পর বাবার লাশ দাফনের অনুমতি
নাজিমউদ্দিন মিয়ার মরদেহ। পাশে স্বজনরা
সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:১৪
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে জমির অংশের দাবিতে মেয়ের বাধাদানের ঘটনায় আটকে থাকা নাজিমউদ্দিন মিয়ার (৭৫) লাশ অবশেষে ২৭ ঘণ্টা পর দাফন করা হয়েছে। পুলিশের মধ্যস্থতায় এবং স্থানীয় মাতব্বরদের উপস্থিতিতে দেড় লাখ টাকার আপসরফা হওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
তবে সম্পত্তির কারণে জন্মদাতা বাবার মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার এই ঘটনা পুরো উপজেলায় তীব্র ক্ষোভ ও নানামুখী আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত কারণে রোববার বিকেল ৪টায় মারা যান নাজিমউদ্দিন মিয়া। পরদিন সোমবার সকাল ১০টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করা হলেও সম্পত্তির হিসাব বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত জানাজায় বাধা দেন মেয়ে হালিমা বেগম। এতে জানাজা না পড়েই ফিরে যান ইমাম ও আগত মুসল্লিরা।
খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমানসহ মাতব্বরদের নিয়ে পুলিশ ভুক্তভোগীর দুই সন্তানকে আলোচনায় বসায়। আলোচনার একপর্যায়ে ভাই ইদ্রিস আলী মিয়া বাবার জমির অংশ বাবদ বোন হালিমা বেগমকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিতে সম্মত হন। টাকা পরিশোধের জন্য ২০ দিন সময় নিয়ে জামানত হিসেবে তৎকালীন ব্যাংকের একটি চেক দেন। টাকার চেক হাতে পাওয়ার পর মেয়ে হালিমা বেগম বাবার দাফনের অনুমতি দেন। পরবর্তী সময়ে সোমবার বাদ মাগরিব জানাজা শেষে রাত ৭টায় মরদেহ দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ওসি এ কে এম হাবিবুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে দুই ভাই-বোনের মধ্যে সমঝোতা করিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এ ধরনের ঘটনা সমাজের জন্য কোনো ভালো বার্তা বহন করে না।’
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও আলেম সমাজ একে চরম নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সাদুল্লাপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ইসলামী বিধানমতে বাবার সম্পত্তিতে কন্যা অবশ্যই হকদার। তবে সম্পত্তি আদায় করতে গিয়ে মরদেহ আটকে রাখা সম্পূর্ণ অন্যায়। ইসলামে মৃত্যুর পর যত দ্রুত সম্ভব মরদেহ দাফনের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে।’