সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ, আড়াই বছরে ফল শূন্য
সিলেট-তামাবিল সড়কের হরিপুর এলাকায় কচিরের ব্রিজসংলগ্ন স্থানে পড়ে রয়েছে প্রকল্পের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সমকাল
মুকিত রহমানী, সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেটের অন্যতম মেগা প্রকল্প সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেন ও উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এখনও শূন্যের কোঠায়। প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ২০২৩ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আড়াই বছর পার হয়ে গেছে। অথচ মূল কাজ শুরুই করতে পারেনি দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এরই মধ্যে দুবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও কাজের অগ্রগতি বলতে কেবল দুটি স্থানে প্লান্ট বসানো এবং একটি ছোট অংশে সামান্য মাটি ভরাটের কাজ। এমনকি গত পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া। প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম ধীরগতি ও দীর্ঘসূত্রতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি একনেক সভায় ঢাকা- সিলেট মহাসড়কের পাশাপাশি ঢাকা-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই বছরের ২৪ অক্টোবর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী সড়কটি ছয় লেনে উন্নীতকরণের ঘোষণা দিলেও কার্যাদেশ অনুযায়ী সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পীর হাবিবুর রহমান চত্বর থেকে শাহপরান বাইপাস হয়ে তামাবিল স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫৬ দশমিক ১৬ কিলোমিটার সড়ক চার লেন এবং উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেনে উন্নীত করা হবে।
২০২৩ সালে দরপত্র প্রক্রিয়ার পর সড়ক নির্মাণকাজের প্যাকেজ-২ এর ২০ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশের কাজ পায় দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেড। বাকি প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-৩ এর কাজ পায় চীনের প্রতিষ্ঠান ‘কিউটিসিজিএস’। ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে আনুমানিক সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
নথি অনুযায়ী, সিলেট-তামাবিল প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। ২০২৩ সালে কাজ শুরুর কথা থাকলেও তা না হওয়ায় মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়। এরপরও কাজ শুরু না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থাৎ আরও ৩ বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
প্রকল্পের ৫৬ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে গত কয়েক বছরে মাত্র ৫ কিলোমিটার জায়গার অধিগ্রহণ শেষ হলেও সওজ তা পুরোপুরি বুঝে পায়নি। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধিগ্রহণ শাখা-২ থেকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলাম মৌজার ৪৬ দশমিক ৬৮ একর ভূমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অধিগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আইনি জটিলতা ও মামলার কারণে তা আটকে যায়। এমনকি ২০২৪ সালে ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধনও করেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, হরিপুর এলাকার করিচ ব্রিজের পাশে নতুন ব্রিজের জন্য আংশিক পাইলিংয়ের কাজ করা হয়েছে। এ ছাড়া তামাবিল মহাসড়কের বাগের সড়ক এলাকায় মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিটার অংশে কিছু মাটি ভরাট এবং দুটি স্থানে বেসিন প্লান্ট ও কিছু যন্ত্রপাতি রাখা ছাড়া বাস্তবে সড়ক নির্মাণের কোনো কাজই চোখে পড়েনি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক গোলাম রব্বানীর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেত যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি। তবে এক সাইট ইঞ্জিনিয়ার জানান, জমি বুঝে না পাওয়া এবং আনুষঙ্গিক নানা ঝামেলার কারণে তারা পূর্ণাঙ্গ কাজ শুরু করতে পারেননি।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক মামুন খান জানান, প্লান্ট তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। আগামী এক মাসের মধ্যে মূল সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হবে। দুই মাসের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতাগুলো সমাধান হবে।
- বিষয় :
- সড়ক