স্কুল শিক্ষকের বাড়ির রাস্তা কেটে পুকুরে নিক্ষেপ
ফেনী সদরের মাছিমপুর গ্রামে মঙ্গলবার শিক্ষকের বাড়ির রাস্তা কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা সমকাল
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফেনীতে স্কুল শিক্ষকের বাড়ির চলাচলের পথ কেটে পুকুরে নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে নাছির উদ্দিন শামীম নামে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারের এক গৃহবধূকে মারধর করে পানিতে ফেলে দেওয়া এবং তাঁর মোবাইল ফোন আছড়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত মঙ্গলবার ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন গত বছর মাছিমপুর মৌজার ৩০৪৩ দাগে ৮ শতাংশ জমি ও একটি বসতবাড়ি কিনেন। একই দিনে সংলগ্ন ৩০৪৪ দাগে আরও ৪ শতাংশ জমি কিনে তিনি পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন। চলতি বছরের ২৮ জুলাই চিকিৎসক নাছির উদ্দিন শামীম একই এলাকায় জমি কেনেন। এরপর থেকে দুজনের মধ্যে জমির সীমানা ও দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। ঘটনা নিষ্পত্তির জন্য আদালতে মামলা গড়ালে আদালত ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন।
অভিযোগ উঠেছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত মঙ্গলবার বহিরাগত লোকজন এনে শিক্ষকের বাড়ির চলাচলের কাঁচা রাস্তা কেটে পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাস্তা কাটার কাজ বন্ধ করে দেয়। পুলিশ উভয় পক্ষকে রাতে প্রয়োজনীয় দলিল-দস্তাবেজ নিয়ে থানায় যাওয়ার অনুরোধ জানায়। পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই ওইদিন বিকেলে গ্রিল বসিয়ে চলাচলের পথটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি বৈধভাবে জমি ও বাড়ি কিনে সপরিবারে বসবাস করছি। ডা. নাছির উদ্দিন শামীম জমি কেনার পর থেকে অহেতুক বিরোধ সৃষ্টি করছেন। আদালতের আদেশ তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক রাস্তা কেটে ও গ্রিল দিয়ে আমাদের বন্দি করে ফেলা হয়েছে। আমি প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করছি।’
নাসির উদ্দিনের স্ত্রী আছমা আক্তার বলেন, ‘আমাদের পরিবার নিয়ে বের হওয়ার একমাত্র পথটি যখন কেটে পুকুরে ফেলে দেওয়া হচ্ছিল, আমি বাধা দিতে যাই। এ সময় আমার হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয় এবং আমাকে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। আমার চার মেয়েকে নিয়ে এখন কীভাবে ঘর থেকে বের হবো? আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. নাছির উদ্দিন শামীম বলেন, ‘এখানে আগে থেকে কোনো চলাচলের পথ ছিল না। এটি আমার নিজস্ব জায়গা, তাই আমি কেটেছি। পুলিশ বিষয়টি জানে। আমরা তাদের সবকিছু জানিয়েছি।’
ফেনী মডেল থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে থানায় ডাকা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
- বিষয় :
- রাস্তা খোঁড়া