কটিয়াদীতে ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী জমজমাট ঢাকের হাট
নেচে নেচে তারা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মণ্ডপের কর্তা ব্যক্তিদের মনোরঞ্জনের চেষ্টা করছেন। ছবি: সমকাল
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:২৩ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:২৪
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা সদরের পুরান বাজারে প্রায় ৫০০ বছর ধরে বসছে ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট। পূজা শুরুর দুতিন দিন আগে থেকেই এখানে বসে ঢাকের হাট। আজ বৃহস্পতিবারের চিত্র ছিল বেশ জমজমাট। সিলেটের কাজল মিয়ার ‘কাজল ব্যান্ড’ কটিয়াদী পৌর এলাকার কালিবাড়ির মণ্ডপের জন্য আজ চুক্তি করেছে এক লাখ ২০ হাজার টাকায়।
আজ বিকেলে গিয়ে দেখা গেছে, দেশের নানা প্রান্ত থেকে ঢাকী দল তাদের নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র নিয়ে এসেছেন। নেচে নেচে তারা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মণ্ডপের কর্তা ব্যক্তিদের মনোরঞ্জনের চেষ্টা করছেন। দৃষ্টি আকর্ষণ করতে অনেককে আবার বাহারি পোশাকেও সাজতে দেখা যায়। আর দরকষাকষি করে চুক্তিও করছেন। এখানে গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলার দক্ষ বাদক দল ঢাক, কাঠের, করতাল, খঞ্জনি, সানাই, ট্রাম্প্যাড আর কর্তাল সহ অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র নিয়ে এসে পূজার কয়েক দিন আগে থেকে জড়ো হন। আর পূজা শুরু হওয়ার দুতিন দিন আগে থেকে কিশোরগঞ্জ ছড়াও পার্শ্ববর্তী নরসিংদী, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ আর সুনামগঞ্জ থেকে পূজা মণ্ডপের কর্মকর্তারা এসে প্রতিটি বাদক দলের পরিবেশনা আর দক্ষতা পরখ করতে থাকেন। এরপর দরদাম করে পারিশ্রমিক সাব্যস্ত করে সঙ্গে করে পছন্দের দলটি নিয়ে যান।
আজ দেখা গেছে, গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকার গণেশ চন্দ্র দে তাদের মণ্ডপের জন্য নরসিংদীর শিবপুরের সত্যেন্দ্র মনি দাসসহ দুই ঢাকীকে নিয়েছেন ২১ হাজার ৫০০ টাকায়। আবার বাজিতপুর উপজেলার সরারচর ইউনিয়নের জহরপুর এলাকার গোপাল সূত্রধর তাদের মণ্ডপের জন্য মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বিক্রমপুরের ভজন দাস নামে একজন ঢাকীকে নিয়েছেন ২০ হাজার টাকায়। গাজীপুরের কাপাসিয়ার ঢাকী সুমন চন্দ্র মনিদাস এই হাটে আসছেন ২০ বছর ধরে। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বারঘরিয়া এলাকার ঢাকী আবু হানিফ এবং জেলা শহরের সতাল এলাকার ঢাকী সোহাগ মিয়া, ট্রাম্প্যাড বাদক জয়নাল আসছেন ১৬ বছর ধরে। প্রতিটি পূজাতেই বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার দেখা যায়। তবে দুর্গাপূজার উৎসবে থাকে বাদ্যযন্ত্রের বাড়তি জমজমাট আয়োজন।
ঢাকের হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রতন কুমার সাহা জানালেন, তারা হাটে টেবিল আর রেজিস্টার খাতা নিয়ে বসে সুষ্ঠুভাবে তদারকির দায়িত্ব পালন করেন। মণ্ডপের কর্মকর্তা আর ঢাকীদের নাম-ঠিকানা ফোন নম্বরসহ লিপিবদ্ধ রাখেন।
তিনি আরও জানান, এখানে এলাকার রাজা নবরঙ্গ প্রায় ৫০০ বছর আগে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাটের প্রচলন করেন। এরপর থেকে প্রতিবছর নিয়মিত হাট বসছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ঢাকীরা যেমন আসছেন, মণ্ডপের কর্মকর্তারাও আসছেন। প্রশাসনের সহায়তায় তাদের সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয়ে থাকে। বাইরের ঢাকীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়ে থাকে।
- বিষয় :
- কিশোরগঞ্জ