ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পাকা সড়ক খুঁড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে তিন কালভার্ট

পাকা সড়ক খুঁড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে তিন কালভার্ট
×
×

তাহিরপুরের উত্তর বড়দল ইউনিয়নের চানপুর বাজারসংলগ্ন হাঁড়িভাঙ্গা সড়কে নির্মাণাধীন কালভার্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার তোলা সমকাল

 তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:০০ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:০৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

সড়কের দুই পাশে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। নেই দৃশ্যমান কোনো পানির প্রবাহ, খাল কিংবা ছড়া। এর মধ্যেই বিটুমিনের সড়ক কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে কালভার্ট। এক জায়গায় নয়, অন্তত তিনটি স্থানে সড়ক খুঁড়ে কালভার্ট নির্মাণের এমন উদ্যোগে বিস্মিত স্থানীয় বাসিন্দারা। অথচ সীমান্ত ছড়ার পানি নিষ্কাশনের জন্য পাশেই রয়েছে কালভার্ট।
ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত সড়কের ট্যাকেরঘাট থেকে কড়ইগড়া বাজার পর্যন্ত চলমান সড়ক সংস্কারকাজে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন এই সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে পাঁচটি ব্রিজ ও ১০টি কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি কালভার্ট নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ কোটি ৯৫ লাখ ২৮ হাজার ৩৩১ টাকা।

প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স নুর কনস্ট্রাকশন ইতোমধ্যে নির্মাণকাজ শুরু করেছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারের সময় প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা যথাযথভাবে বিবেচনায় না নিয়ে বিটুমিনের সড়ক কেটে নতুন করে কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। অথচ পাশের ছড়ার পানি নিষ্কাশনের জন্য ওই সড়কে আগে থেকে কালভার্ট রয়েছে। বিদ্যমান কালভার্টগুলো সংস্কারের পাশাপাশি আরও তিনটি নতুন কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগে সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ ছাড়া সড়কটি প্রশস্ত করতে গিয়ে স্থানীয়দের রেকর্ডভুক্ত জমির একটি অংশ সড়কের আওতায় চলে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন তারা। এতে জমির মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, ট্যাকেরঘাট থেকে কড়ইগড়ামুখী সড়কের বিভিন্ন অংশে সংস্কারকাজ চলছে। রাজাই গ্রামের অংশে সড়কের দুই পাশে রয়েছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। এরই মধ্যে একটি স্থানে বিটুমিনের আস্তরণ কেটে বড় আকারের গর্ত করা হয়েছে। কোথাও কালভার্ট নির্মাণের জন্য মাটি খোঁড়া হয়েছে, আবার কোথাও সড়কের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা বলছেন, এসব কালভার্টে সামনে ও পিছনে খাল খনন করে দেওয়া হবে। যাতে কালভার্টের নিচ দিয়ে পানি প্রবাহ হয়।

সীমান্তের চানপুর গ্রামের বাসিন্দা দীন ইসলাম বলেন, এই সড়কের যেসব স্থানে এখন নতুন করে কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে, সেসব জায়গা দিয়ে পানি চলাচল করতে কোনোদিন দেখিনি। পাশের ছড়া ও পানি নিষ্কাশনের জন্য আগ থেকে কালভার্ট রয়েছে। তারপরও নতুন করে কালভার্ট নির্মাণের বিষয়টি আমাদের কাছে কোনোভাবেই যৌক্তিক মনে হচ্ছে না।

রাজাই গ্রামের বাসিন্দা মো. জহুর আলী বলেন, যেখানে নতুন করে কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে, জায়গাটি তুলনামূলকভাবে উঁচু। এখানে আগে মানুষের বসতিও ছিল। এই স্থান দিয়ে পানি চলাচল করতে আমরা কখনও দেখিনি। কালভার্ট নির্মাণের আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা পরামর্শও করা হয়নি।

উত্তর বড়দল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কফিল উদ্দিন বলেন, কড়ইগড়া-ট্যাকেরঘাট রাস্তাটি পাকিস্তান আমলে নির্মাণ করা। সরকার সীমান্ত সড়ক উন্নয়নের জন্য রাস্তা প্রশস্ত করছে। এটি একটি ভালো উদ্যোগ। রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে যদি কারও জমি পড়ে তাহলে জমির মালিকরা যেন ক্ষতিপূরণ পায়, সে ব্যাপারে তিনি কর্তৃপক্ষের সুনজর কামনা করেন।

তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, কড়ইগড়া-ট্যাকেরঘাট সড়কটি সীমান্ত সড়ক। বিভিন্ন প্যাকেজে সড়ক নির্মাণকাজ চলছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে নেত্রকোনা জেলা থেকে সুনামগঞ্জ জেলায় সীমান্ত পথে সড়ক যোগাযোগ উন্নত হবে। তিনি আরও বলেন, সড়কটি বর্তমানে ১২ ফুট প্রস্থ আছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে শোল্ডারসহ রাস্তাটি ২৪ ফুটে দাঁড়াবে। তাছাড়া সরকারি ম্যাপে রাস্তার প্রশস্ততা ৪৮ ফুট রয়েছে। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে। রাস্তা নির্মাণকাজের ২০ ভাগ স্থানে গ্যাপ (পানি নিষ্কাশনের জন্য) তৈরি রাখার।

সুনামগঞ্জ এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, সরকারি খাস জায়গায় সড়কের জন্য ৪৮ ফুট জায়গা রয়েছে। যারা ব্যক্তিগত জমি দাবি করছেন, তাদের দাবির সত্যতা যাচাইয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এখন কালভার্টের প্রয়োজনীয়তা দৃশ্যমান না হলেও বর্ষায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢল নামলে পানি চলাচলের পথ প্রয়োজন হবে। পর্যাপ্ত কালভার্ট না থাকলে পানির চাপে সড়ক ভেঙে যেতে পারে। 

আরও পড়ুন

×