বিসিএসে মেধা তালিকায় ২৮তম হয়েও গেজেট বঞ্চিত জুলাই যোদ্ধা মনির
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:২৩
‘এই রাষ্ট্র আমার না। চার বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ধৈর্যের ফলাফল আজ শূন্য। কীভাবে বৃদ্ধ আব্বার সামনে যাব, জানি না। শুধু একটাই প্রশ্ন—কী অপরাধে মেধা তালিকায় ২৮তম হওয়ার পরও বাদ দেওয়া হলো? আমাকে ক্রসফায়ার দিয়ে দেন। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না।’
৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়ে এভাবেই নিজের চরম ক্ষোভ ও হতাশার কথা বলছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান।
সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে মনিরুজ্জামান মৎস্য ক্যাডারে মেধা তালিকায় ২৮তম স্থান অর্জন করে ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
তবে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে নিজের নাম না দেখে হতবাক হয়ে পড়েন এই অদম্য মেধাবী। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা সাফল্যের সঙ্গে পার করার পরও কেন চূড়ান্ত গেজেট থেকে বঞ্চিত হতে হলো, তার কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই মনিরুজ্জামানের কাছে। অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে কেন বাদ দেওয়া হলো, এর কোনো উত্তর আমার জানা নেই। আমি কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না।’
তিনি সমকালকে বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী জুলাই অভ্যুত্থানের সময় একদম শুরু থেকেই সামনের সারিতে থেকে লড়াই করেছি। যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করেছিলাম, আজ সেই একই বৈষম্যের শিকার হতে হলো আমাকে।’
ভেরিফিকেশনের নামে প্রার্থীর জীবন ধ্বংসের অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, একটি বিসিএসের পেছনে একজন শিক্ষার্থীকে জীবনের মূল্যবান কয়েকটি বছর লড়াই করতে হয়। প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করার পর চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ দেওয়া সম্পূর্ণ অমানবিক। কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কাজ বা মামলা-মকদ্দমা না থাকার পরও ‘পুলিশ ভেরিফিকেশন’-এর দোহাই দিয়ে আর কত প্রার্থীর জীবন নষ্ট করা হবে?
- বিষয় :
- ময়মনসিংহ