ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সাতক্ষীরায় গণপিটুনিতে যুবক হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

সাতক্ষীরায় গণপিটুনিতে যুবক হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২
×
×

মোক্তার হোসেন ও আসাদুল মোল্যা। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:৩৪ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:৩৫

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪০) নামের এক যুবককে দুই দফায় গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে নিহতের বড় ভাই মো. আবদুল জলিল সানা বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ, অজ্ঞাত আরও ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। দুই আসামিতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- উপজেলার নাজিরঘের এলাকার মাহাতাব উদ্দীন খাঁর ছেলে মোক্তার হোসেন (৫৩) ও রহিম বক্সমোল্যার ছেলে আসাদুল মোল্যা (৪৬)। 

নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম দেবহাটা উপজেলার বড় শান্তা গ্রামের মৃত শামছুর রহমানের ছেলে। নিহতের ছোট ভাই তৌসিফ রহমান সাগর বলেন, বড় ভাই শামীম মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তার ৮ বছর ও সাতমাস বয়সি দুটি সন্তান রয়েছে। পারিবারিক নানা অশান্তিসহ কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। ওই কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সে বিষপান করলে তাকে গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে তাকে কুলিয়া এলাকার পল্লি চিকিৎসক সবুরের চেম্বারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। এ সময় ফজলুল হক আমিনী ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে লাইভ করেন এবং লোকজনকে জড়ো হতে উসকানি দেন। এরপর একদল লোক পল্লি চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে শামীমের ওপর প্রথম দফায় হামলা চালায়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ৯টার দিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় ।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাগর বলেন, তার বড় শামীম যদি কোনো অপরাধ করে থাকত, তবে দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে তার বিচার হতে পারত। কিন্তু এভাবে একটি মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হলো কেন? ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তিনি শাস্তির দাবি জানান তিনি।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ. এম. শাহীন জানান, এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আবদুল জলিল সানা বাদী হয়ে একটি হত্যামামলা করেছেন। আজ শুক্রবার ভোর রাতে সুবর্ণাবাদ এলাকা থেকে মাহাতাব উদ্দীন খানের ছেলে মোক্তার হোসেন খানকে ও নাজিরের ঘের এলাকা থেকে রহিম বক্স মোল্যার ছেলে আসাদুল ইসলাম মোল্যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

ওসি আরও বলেন, ফেসবুকে লাইভ করে শামীমকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোকজন জড়ো করার অভিযোগে মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীর ভূমিকা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য, ডিজিটাল প্রমাণ ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।

আরও পড়ুন

×