ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

১০ হাজার গোল্ডেন চকলেটে তৈরি প্রতিমায় পূজা পাচ্ছেন দেবী দুর্গা 

১০ হাজার গোল্ডেন চকলেটে তৈরি প্রতিমায় পূজা পাচ্ছেন দেবী দুর্গা 
×
×

সৌরভ হাবিব, রাজশাহী 

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৩৭

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরের প্রতিমা সাজানো হয়েছে গোল্ডেন চকলেটের কয়েন দিয়ে। তাহেরপুরের গঙ্গামন্দিরে চকলেটের প্রতিমা দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। প্রতিবছরই প্রতিমার সাজসজ্জায় ব্যতিক্রমী আয়োজন করে মন্দির কর্তৃপক্ষ। তবে এবার চকলেটের কয়েন দিয়ে প্রতিমা সাজানোর উদ্যোগ উৎসবে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। অভিনব এই সাজ দেখতে মন্দিরে আসছেন বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থী। প্রতিমার নান্দনিক সাজসজ্জা আর উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে মন্দির প্রাঙ্গণ।

আজ শুক্রবার দুর্গাপূজার ষষ্ঠীতে মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমার সাজসজ্জায় চকলেটের কয়েন ব্যবহার করা হয়েছে। প্রচলিত সাজসজ্জার বাইরে এমন ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মন্দিরে আসছেন, ঘুরে দেখছেন প্রতিমা ও মণ্ডপের সাজসজ্জা। কেউ কেউ এই আয়োজনের প্রশংসা করছেন, আবার অনেকে প্রতিবছরের আয়োজনের সঙ্গে এবারের সাজের পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছেন।

মন্দিরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দুর্গোৎসবকে ঘিরে প্রতিবছরই নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা হয়। দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করা এবং উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। সেই ভাবনা থেকেই এবার প্রতিমার সাজসজ্জায় চকলেটের কয়েন ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ দর্শনার্থীদের ভালো লাগবে এবং উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তুলবে।

মন্দিরের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত নবজাগরণ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুজিত কুমার হালদার বলেন, ‘প্রতিবছরই আমরা পূজার আয়োজনে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করি। এবার ১০ হাজার চকলেটের কয়েন দিয়ে প্রতিমা সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খরচ হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। আমরা চাই, দর্শনার্থীরা মন্দিরে এসে সুন্দর একটি আয়োজন উপভোগ করুন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে সবাই যেন আনন্দের সঙ্গে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্গোৎসব শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, এটি মানুষের মধ্যে আনন্দ ও সম্প্রীতি ভাগাভাগি করারও উপলক্ষ। সবাই যেন নির্বিঘ্নে মন্দিরে আসতে পারেন এবং উৎসব উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’

গঙ্গামন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রতিবছরই আমরা প্রতিমার সাজসজ্জায় কিছুটা ভিন্নতা রাখার চেষ্টা করি। এবার চকলেটের কয়েন দিয়ে সাজানোর বিষয়টি দর্শনার্থীদের কাছে নতুন আকর্ষণ তৈরি করেছে। পূজার আয়োজন সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে আমরা কাজ করছি। দর্শনার্থীরা এসে প্রতিমা দেখে আনন্দ পাচ্ছেন- এটাই আমাদের ভালো লাগা।

মন্দিরে প্রতিমা দেখতে আসা অনুপ কুমার বলেন, চকলেটের কয়েন দিয়ে প্রতিমা সাজানোর বিষয়টি আমার কাছে বেশ ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে। সাজসজ্জা দেখতে খুব ভালো লাগছে। প্রতিবছরই পূজা দেখতে আসি, তবে এবারকার আয়োজনের মধ্যে আলাদা একটি আকর্ষণ রয়েছে।

লতা রানী নামের দর্শনার্থী বলেন, পরিবার নিয়ে মন্দিরে এসেছি। প্রতিমার সাজসজ্জা সুন্দর হয়েছে। এমন নতুন আয়োজন দেখতে ভালো লাগে। পূজার সময় সবাই মিলে ঘুরতে আসা, প্রতিমা দেখা এবং আনন্দ ভাগাভাগি করার মধ্যে অন্য রকম অনুভূতি রয়েছে।

এদিকে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে মিলেমিশে দুর্গোৎসবের আনন্দ উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তাহেরপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম বাবু। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে সবাই মিলেমিশে আনন্দের সঙ্গে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপন করবেন। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আমরা চাই, সবাই আনন্দ করবেন, উৎসব উপভোগ করবেন। উৎসব সবার মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করে। তাই কোনো বিভেদ নয়, সবাই একসঙ্গে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব পালন করবেন - এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে তাহেরপুরের গঙ্গামন্দিরে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে। প্রতিমার সাজসজ্জায় নতুনত্বের পাশাপাশি সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তাও ছড়িয়ে পড়ছে উৎসবের পরিবেশে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, আনন্দ, উৎসাহ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে এবারের দুর্গোৎসব।

আরও পড়ুন

×