ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই চলছিল টুপটুপ রিসোর্ট

নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও

ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই চলছিল টুপটুপ রিসোর্ট
×
×

অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া টুপটুপ রিসোর্ট। ছবি: সমকাল

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:৫৩ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:০৮

ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁটি নির্মাণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী এলাকার এক ব্যক্তি এ রিসোর্টটি নির্মাণ করেন। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, গত জুন মাসে এ বিষয়ে রিসোর্টকে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল। 

সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘সমুদ্রের তীব্র বাতাসে কাঠের রিসোর্টে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের স্থাপনায় বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, হোস পাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকা দরকার। কিন্তু রিসোর্টটিতে এগুলোর কিছুই ছিল না। ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। মাত্র সাত-আট মাস আগে রিসোর্টটি তৈরি হয়েছিল। জায়গাটির মালিকানা নিয়েও দ্বন্দ্ব ছিল। এমনকি টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি হতো।’ 

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, ‘ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁ নামের কোনো প্রতিষ্ঠানকে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। সম্ভবত এ নামের কোনো প্রতিষ্ঠান ছাড়পত্র নেওয়ার জন্য আবেদনও করেনি।’

দুর্ঘটনার আগে টুপটুপ রিসোর্ট

শনিবার সকালে রিসোর্টটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দশ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয় জন আহত হয়েছেন। হোটেলে মোট ১৮ জন পর্যটক ছিলেন। এখনো উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।’ 

এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দুই শিক্ষার্থীসহ একই পরিবারের ছয়জন মারা যান। একই পরিবারের নিহতরা হলেন—ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), জবি শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), ঢাবি শিক্ষার্থী নাফিস তেহামী, ফারিহা কবির (৩৩) ও ফাইয়াজ আহম্মেদ (৫)।

এ ঘটনায় আহত ছয়জন হলেন—মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিসা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। 

এ বিষয়ে উখিয়ার ইউএনও পান্না আক্তার সমকালকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দশ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারনা করছি, এর মধ্য একই পরিবারের ছয়জন সদস্য হতে পারে। তবে ডিএনএ রিপোর্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

সংশ্লিষ্ট খবর

আরও পড়ুন

×