ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

নিখোঁজের পাঁচ মাস পর মিলল তরুণের ৭৭ হাড়

কিশোরসহ চারজন গ্রেপ্তার, হত্যার কথা স্বীকার

নিখোঁজের পাঁচ মাস পর মিলল তরুণের ৭৭ হাড়
×
×

গ্রেপ্তার চার অভিযুক্ত

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৩৭

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে নিখোঁজের পাঁচ মাস পর নদীতে মিলেছে আরিফ মিয়া ওরফে সালমান (১৯) নামের তরুণের কঙ্কাল। এর মধ্যে রয়েছে খুলিসহ ৭৭টি হাড়। এ ঘটনায় কিশোরসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুই কিশোরের দেওয়া তথ্য অনুসারে গত শুক্রবার দুপুরে হোসেনপুরের শাহেদল ইউনিয়নের দক্ষিণ কুড়িমারা এলাকার নরসুন্দা নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে সালমানের মাথার খুলিসহ ৭৭টি হাড় উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান শনিবার দুপুরে তার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেছেন, দক্ষিণ কুড়িমারা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে সালমান গত ১৮ মে সন্ধ্যায় এলাকার ইলিম বাজারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু রাতে বাড়িতে ফিরে না আসায় বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে পরদিন ফজলুর রহমান হোসেনপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর গোয়েন্দা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সালমানের ফোনের কলরেকর্ড এবং সালমানসহ তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের গতিবিধি পরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হতে পারে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সালমানকে হত্যা করেছে তার বন্ধুরা। প্রথমে সালমানসহ তার বন্ধুরা একটি নির্জন জায়গায় মাদকের আসরে মিলিত হয়। সেখানেই তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

সালমানের বাবা ফজলুর রহমান গত শুক্রবার হোসেনপুর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. বাহার মিয়ার নেতৃত্বে একটি দল পার্শ্ববর্তী পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামে অভিযান চালায়। সেখান থেকে আটক করা হয় স্থানীয় গোলাপ মিয়ার দুই ছেলে সাকিব (১৮) ও মাফি (১৫), একই গ্রামের মৃত মোতালেবের ছেলে রফিক মিয়া (৪০) ও শামছুদ্দিনের ছেলে রমজান মিয়াকে (৩৫)। তারা জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের দেখানো মতে নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে সালমানের কঙ্কাল উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

ঘটনাস্থলে একটি গেঞ্জি পাওয়া গেলে সেটি দেখে ফজলুর রহমান তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন। গেঞ্জিটি ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আর পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন করে ময়নাতদন্তের জন্য কঙ্কাল পাঠিয়েছে শহীদ সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজের মর্গে।

আটক চারজনকে মামলার আসামি করা হয়েছে। তাদের গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।

নিহত সালমান ও গ্রেপ্তার হওয়া দুই কিশোর শিক্ষার্থী, তবে অনিয়মিত। পুলিশ সুপার বলেছেন, থানায় যেসব মিসিং ডায়েরি করা হয়, এর মধ্যে অনেকে প্রেম করে পালিয়ে যায়, কেউ পরকীয়ার কারণে পালিয়ে যায়, কিছু হয়তো অপহরণ বা খুন হয়। তবে কিশোরদের হাতে স্মার্ট ফোন তুলে দেওয়ার কারণেও অনেক অঘটন ঘটে বলে তিনি অভিজ্ঞতা থেকে জানিয়েছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মুকিত সরকার, ডিবির ওসি মো. বাহার মিয়া ও ডিএসবি পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম।

আরও পড়ুন

×