ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গোৎসব

মণ্ডপে পৌরাণিক কাহিনি শৈশবের সাজে দেবী দুর্গা

মণ্ডপে পৌরাণিক কাহিনি শৈশবের সাজে দেবী দুর্গা
×
×

শিশুতোষ সাজে সাজানো প্রতিমার নিচে পূজার জন্য রাখা ছোট প্রতিমা। গতকাল শনিবার খুলনা নগরীর সাহেবের কবরখানা মোড়ে সমকাল

হাসান হিমালয়, খুলনা ও এম এ এরশাদ, ডুমুরিয়া

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

শারদীয় দুর্গোৎসবের চিরন্তন আবহে খুলনায় এবার লেগেছে ভিন্ন রূপের ছোঁয়া। প্রথাগত আয়োজনের গণ্ডি পেরিয়ে শৈল্পিক কারুকার্য, বৈচিত্র্যময় থিম আর বাহারি আলোকসজ্জায় মণ্ডপগুলো যেন রূপ নিয়েছে জীবন্ত ক্যানভাসে। শরতের স্নিগ্ধতাকে সঙ্গী করে মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় এবার ৯৬৬টি মন্দির ও মণ্ডপে দেবী দুর্গার আবাহন করা হয়েছে। যার মধ্যে ৮৯০টি ৯ উপজেলায়। বাকি ৭৬টি মণ্ডপ সেজেছে মহানগরীতে। প্রতিটি আয়োজনে রয়েছে ভিন্নতা আর নান্দনিকতার ছোঁয়া। 

২০১ প্রতিমায় পৌরাণিক কাহিনি
ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নে খরসংগ গ্রামে পাশাপাশি দুইটি মন্দিরে সাজানো হয়েছে ৩৫৩টি প্রতিমা। এর মধ্যে গ্রামের কালার বটতলা সর্বজনীন পূজা মন্দিরে ২০১টি প্রতিমায় ভীষ্মের প্রতি শ্রীকৃষ্ণের অস্ত্র ধারণ, দক্ষ-যোগ্য, সত্যবানের মৃত্যু, ভীষ্মের রাক্ষস বধ, অর্জুন-নাগকন্যা, রাজা হরিশ চন্দ্রের শ্মশানঘাট, ভগিরথের গঙ্গা, শ্রীকৃষ্ণের বকাসুর বধ, রামের সীতা উদ্ধারসহ রামায়ণের পৌরাণিক ভিন্ন ভিন্ন ঘটনাচিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
সাহাপাড়া মন্দির কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কার্তিক চন্দ্র সাহা বলেন, স্থানীয় পূজারি ও গ্রামবাসীর সাহায্যে এখানে ৫২ বছর ধরে এভাবে তাদের পূজা হয়। 

১৫২টি প্রতিমায় দুর্গার ৯ রূপ
একই গ্রামের মিকশিমিল সাহাপাড়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে তৈরি করা হয়েছে ১৫২টি প্রতিমা। প্রতিমার মাধ্যমে দেবী দুর্গার ৯টি রূপ, রথযাত্রা, রাম-সীতার সংক্ষিপ্ত রূপ, ভগীরথের সাত পুত্রের পুনর্জন্মসহ নানা প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে। এই মন্দিরের মূল আকর্ষণ হনুমানের ২০ ফুট উঁচু বিগ্রহ। 

সোনালি ধানের প্রতিমা
খুলনা নগরীর বাগমারা তেঁতুলতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরে প্রতিমা সাজানো হয়েছে বাংলার চিরায়িত রূপ ও কৃষিজীবী সংস্কৃতির মেলবন্ধনে। প্রায় ৩০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে প্রতিমা। এই দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা দর্শনার্থী ও ভক্তদের কাছে প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
মন্দির কমিটির সভাপতি রনজিৎ রায় বলেন, ‘ধান শুধু আমাদের খাদ্য নয়, আমাদের কৃষি ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের প্রতীক। তাই ধান দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রতিমার অবয়ব।’

শিশুতোষ রূপে দেবী
নগরীর সাহেবের কবরখানা মোড়ের মণ্ডপে দুটি প্রতিমা। বড় প্রতিমাটি তৈরি করা হয়েছে শিশুতোষ রূপে। নিচে পূজার জন্য ছোট করে তৈরি করা আরেকটি প্রতিমা। শিশুদের চেনা রূপে তৈরি বড় প্রতিমা দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে শিশুদের।
পূজা কমিটির সভাপতি বিষ্ণু ঘোষ বলেন, ‘এবার দেবীকে আমরা ভালোবাসায় আগলে রাখা সেই ছোট্ট ‘উমা’ রূপে আবাহন জানিয়েছি। আমরা বোঝাতে চেয়েছি আসুন, আরাধনার পাশাপাশি আমাদের ঘরের মেয়েকে ভালোবাসার এই প্রাচীন আগমনী বার্তাকে অন্তরে অনুভব করি।’

উঁচু মণ্ডপ আর আলোর রোশনাই
নগরীর ডেল্টা ঘাটে বাজার পূজা কমিটির মণ্ডপটি সবচেয়ে উঁচু। প্রায় ৩০ ফুট উঁচুতে দেবী দুর্গার মূল মণ্ডপটি স্থাপন করা হয়েছে। আর এই মণ্ডপটিকে ধরে রাখতে তৈরি করা হয়েছে ৫০ ফুট উঁচু বিশাল স্থাপনা। অন্যদিকে আলোর জাদুতে সেজে উঠেছে নগরীর বিখ্যাত স্বর্ণপট্টি পূজামণ্ডপ। 

আরও পড়ুন

×