ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

পলাতক স্বৈরাচার সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিচ্ছে, এখানে অস্থিরতা করছে আরেক দল: প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহীতে ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষিকে ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা প্রদান

পলাতক স্বৈরাচার সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিচ্ছে, এখানে অস্থিরতা করছে আরেক দল: প্রধানমন্ত্রী
×
×

রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে মঙ্গলবার বিকেলে আখচাষিদের প্রণোদনা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: শরিফুল ইসলাম তোতা

সৌরভ হাবিব, রাজশাহী

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৪৫

পলাতক স্বৈরাচার সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে, আর সেই অর্থে দেশের ভেতরে বসে আরেকটি দল অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং টিকিট বিক্রির চেষ্টা করা একটি দলের সঙ্গে পলাতক স্বৈরাচারের পক্ষ এক হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আখচাষিদের প্রণোদনা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। তারাই কয়েকটি কারখানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আনা ও বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার সময় একটি কুচক্রী মহল এসব কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা, বিদেশি বিনিয়োগ আনা এবং বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়াতে চায়। বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি এবং বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিও সরকারের লক্ষ্য। কিন্তু কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এসব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, জনগণের উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের গতি যারা বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

কৃষকদের ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা
অনুষ্ঠানে ১৫টি চিনিকল এলাকার ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য মোট ১২ কোটি টাকা সরকারি প্রণোদনা বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। মঞ্চে বসে ল্যাপটপের বোতাম চেপে এ অর্থ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি। পরে ১৫টি মিল জোনের ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রতীকী চেক তুলে দেন। প্রণোদনার অর্থ কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয় এবং তারা মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে অর্থ জমার বার্তা পান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো। সরকার গঠনের সাত দিনের মাথায় সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

তিনি জানান, কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা কৃষক কার্ড চালুর কাজ চলছে। ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক, ভূমিহীন ও বড় কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৪০ লাখ ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের কাছে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের অন্তত একটির জন্য সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহের চেষ্টা করবে সরকার। এ ছাড়া কার্ডের মাধ্যমে ফসলের বিমা এবং সহজে ব্যাংকঋণ পাওয়ার সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আবহাওয়া সম্পর্কে তথ্য জানাসহ এতে প্রায় ১০ ধরনের সুবিধা থাকবে।

উপজেলা হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে হবে না; উপজেলা পর্যায়েই তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর কর কমানোর কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্য, আগে যেসব সরঞ্জামের জন্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হতো, কর কমানোর ফলে তা এখন ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সামরিক বিমানে রাজশাহীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে তিনি অনুষ্ঠানের মঞ্চে ওঠেন। প্রণোদনা বিতরণ শেষে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন এবং প্রায় ৩০ মিনিট বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন

×