ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

মেয়াদ শেষের পরেও জিএস পরিচয়ে আম্মারের চিঠি ইস্যু

উপাচার্য বললেন, জরুরি হলে সাবেক পরিচয় দিতে হবে

মেয়াদ শেষের পরেও জিএস পরিচয়ে আম্মারের চিঠি ইস্যু
×
×

রাকসুর সাবেক জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:৫৯ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:০৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পরিচয়ে চিঠি ইস্যু করেছেন সাবেক জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। রাকসুর মেয়াদ শেষ হয়েছে গত রোববার। কিন্তু আজ মঙ্গলবার ‘রাকসু সাধারণ সম্পাদক’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেতাউর রহমানকে একটি চিঠি দেন আম্মার। 

এ বিষয়ে উপাচার্য বলেছেন, ‘জরুরি হলে সাবেক পরিচয় দিতে হবে’।

রাকসু কোষাধ্যক্ষকে ‘পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও নির্বাচনী তপশিল ঘোষণা প্রসঙ্গে’ বিষয়ে দেওয়া এ চিঠিতে আম্মার লিখেছেন, রাকসুর ষষ্ঠ অধিবেশনে নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম তৈরি ও প্রস্তুতি এবং খসড়া সংবিধান পর্যালোচনা, সংশোধন ও চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কোষাধ্যক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো–অধিবেশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাঁকে উক্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বসমূহ অর্পণ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক পত্রের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য প্রতিনিধিদের আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে যাবতীয় ভাউচার জমা প্রদান এবং স্ব-স্ব দাপ্তরিক কক্ষ কোষাধ্যক্ষের দপ্তরের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম ও স্বচ্ছ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তারা এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

চিঠিতে আম্মার আরও লিখেছেন, রাকসু নির্বাচনের বিষয়ে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বর্তমান প্রতিনিধিদের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের জন্য পরবর্তী রাকসু নির্বাচন নিশ্চিত করে যাওয়া। তাই আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তপশিল ঘোষণার মধ্য দিয়েই তারা তাদের দায়িত্ব হস্তান্তর ও স্বচ্ছ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চান।

এর আগে ২৬ অক্টোবর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান সালাহউদ্দিন আম্মারকে একটি চিঠি দেন। সেখানে বলা হয়, চলমান রাকসুর মেয়াদ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর শেষ হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে সালাহউদ্দিন আম্মারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেনননি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠালেও কোনো উত্তর দেননি।

তবে রাকসু সহসভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সমকালকে বলেছেন, ‘রাকসুর আনুষ্ঠানিক কোনো ক্লোজিং হয়নি। ফলে এই জায়গা থেকে তিনি করতে পারেন। তবে চিঠিটা তিনি ব্যক্তিগতভাবে দিয়েছেন। এর সঙ্গে রাকসুর পূর্ণ বডির কোনো সংযুক্ততা নেই।’

রাকসু কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান আম্মারের চিঠির বিষয়ে বলেছেন, ‘উনি এখন সাবেক জিএস। এর বাইরে জিএস পরিচয় তিনি কীভাবে দিয়েছেন, সেটি আমার জানা নেই। এর পাশাপাশি তিনি আমাকে তপশিল ঘোষণা করার কথা বলেছেন, সেই এখতিয়ার আমার নেই। নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।’

সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উল ইসলাম বলেন, ‘রাকসু নির্ধারিত সময়েই মেয়াদ পূর্ণ করেছে। এখন রাকসুর কারও পদের পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ নেই। জরুরি ক্ষেত্রে হলে সেখানে সাবেক লিখতে হবে।’ অডিটের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের মেয়াদের শেষ সময়েও তারা বেশ বড় ফান্ডের কিছু ফাইল অনুমোদন নিয়েছে। এর জন্য মেয়াদের মধ্যে অডিট হয়নি। এখন তারা সব বিষয় সমন্বয় করে জমা দেবেন। পরবর্তী বিধি অনুযায়ী অডিট সম্পন্ন হবে।

পরবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘সামনে ভর্তি পরীক্ষার বড় আয়োজন রয়েছে। এর সঙ্গে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না। ভর্তি পরীক্ষার পরবর্তীতে আমরা সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচনের বিষয়ে মনোযোগ দেব।’

আরও পড়ুন

×