ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রথমবার ‘ভুলের’ কারণে আরও তিনটি অস্ত্রোপচার

প্রথমবার ‘ভুলের’ কারণে আরও তিনটি অস্ত্রোপচার
×
×

সাবেরী শারমিন। ছবি: সংগৃহীত

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৬:৪৯ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪৩

জামালপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী জামালপুর সদর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সাবেরী শারমিন গত মঙ্গলবার জামালপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে মামলাটি করেন। এতে গাইনি চিকিৎসক ডা. সাবরিনা বরকত ও জেনারেল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সাবেরী শারমিন গত ২০ জানুয়ারি তলপেটে ব্যথা নিয়ে জামালপুর শহরের বেসরকারি এম এ রশীদ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসক তাঁর ডিম্বনালী ও ডিম্বাশয়ে সংক্রমণ এবং ডান পাশের ডিম্বাশয়ে রক্তভর্তি সিস্টের কথা জানিয়ে জরুরি অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। গত ২৯ জানুয়ারি হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডা. সাবরিনা বরকত ও জেনারেল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের তত্ত্বাবধানে পেটে অস্ত্রোপচার করা হয়। 

এ সময় কোনো অনুমতি না নিয়ে তাঁর জরায়ু ও ডিম্বাশয় কেটে ফেলা হয়। তবে জরায়ু ও ডিম্বাশয় সম্পূর্ণ অপসারণ না করায় এর কিছু অংশ ভেতরে থেকে যায়। এ ছাড়া তিন জায়গায় নাড়ি ছিদ্র হয়ে যায়। এতে রোগীর শরীরে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ে। অবস্থার অবনতি হলে ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সেখানে তাঁর দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়। এ সময় সেখানকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টিম আগের ত্রুটিপূর্ণ অস্ত্রোপচারের বিষয়টি নিশ্চিত হন।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২২ ফেব্রুয়ারি রোগী ভারতে যান। সেখানে একটি হাসপাতালে ২৩ মার্চ ও ২০ জুন তাঁর তৃতীয় ও চতুর্থ দফা অস্ত্রোপচার হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে সাবেরী শারমিন সম্প্রতি দেশে ফিরে অভিযুক্ত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগে মামলাটি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে জামালপুর শহরের পূর্ব নয়াপাড়া এলাকার নিজ বাসায় অবস্থান করছেন।

গতকাল বুধবার এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, একটি ভুল অপারেশনের কারণে দেশ-বিদেশে আর তিনটি অপারেশন করতে হলো। মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে এসে বিচারের জন্য এখন আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। তিনি আদালত ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। 

তাঁর স্বামী কলেজশিক্ষক মোহাম্মদ ফারুক হোসাইন বলেন, এম এ রশীদ হাসপাতালের বাইরের চাকচিক্য দেখে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকের ভুলের কারণে আমরা আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ওই হাসপাতালে এক লাখ ৮৬ হাজার টাকা এবং পরে দেশ-বিদেশে সব মিলিয়ে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইয়াসিন আরাফাত বলেন, আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান মামলাটি গ্রহণ করে সিভিল সার্জনকে তদন্ত করে মামলার পরবর্তী তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, আদালতের নির্দেশনা তিনি পেয়েছেন। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত টিমের মাধ্যমে আজ বৃহস্পতিবার থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবেন এবং যথাসময়ে আদালতে প্রতিবেদন দেবেন।

গতকাল এম এ রশীদ হাসপাতালে গিয়ে ওই দুই অভিযুক্ত চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের ম্যানেজার শিব্বির আহাম্মদ বলেন, সাবেরী শারমিনকে ভর্তির পর থেকে তাদের ডাক্তাররা যথাযথ চিকিৎসা ও অপারেশন করেছেন। চিকিৎসা চলাকালীন রোগীর স্বজনরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নিয়ে গেছেন। এরপর কী হয়েছে, তাঁর জানা নেই।

আরও পড়ুন

×