কুয়াকাটার সেই জমির মালিকানা দাবি করেছেন একাধিক ব্যক্তি
কুয়াকাটায় নির্মাণাধীন জামায়াতে ইসলামীর এমপি মাসুদ সাঈদীর ‘ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’
মুফতি সালাহউদ্দিন, পটুয়াখালী
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪৩ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫২
| প্রিন্ট সংস্করণ
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পর্যটননগরী কুয়াকাটায় নির্মাণাধীন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি মাসুদ সাঈদীর ‘ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর বায়না করা জমির মালিকানা দাবি করেছেন একাধিক ব্যক্তি। উত্তরাধিকার সূত্রে জমিটির মালিকানা দাবি করেছেন কাজলী বেগম, নাজমুন নাহার, মোহাম্মদ আসলাম, মো. লিটন মিয়া ও বোচান রাখাইন। দেওয়ানি মামলা চলমান থাকায় ওই জমি বিক্রি করার ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন নেওয়ার শর্ত দেয় রেজিস্ট্রি অফিস।
কুয়াকাটার বালিয়াতলীর হাতিপাড়া রাখাইন পল্লির বাসিন্দা বোচান রাখাইন জমিটির একজন দাবিদার। জমির মালিকানা দাবি করে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল কলাপাড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য মতে, ইস্তাম্বুল কর্তৃপক্ষ যেখানে হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট করছে, ওয়ারিশ সূত্রে ওই জমির মালিকানা রাখাইন সম্প্রদায়ের। বোচান রাখাইনের অভিযোগ, সিএস, আরএস ও এসএ’তে রাখাইন সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষদের নামে রেকর্ড রয়েছে।
বোচান রাখাইনের দাবি, ‘কুয়াকাটার লতাচাপলী মৌজায় বিএসের মালিক আমার দাদা নাথর রাখাইন ও তাঁর ভাই সিথর রাখাইন। বিএস দাগ ২৫৫ ও ২৬৮। এই দুটি দাগে ২১ একর ৬৬ শতক জমি রাখাইন সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষের। ওই জমিতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও জোর করে ‘ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ নির্মাণ করছে প্রভাবশালীরা। যার মামলা নম্বর ৪১৭/২০২৪।’
এদিকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না থাকায় বন্ধ করে দেওয়া ‘ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর নির্মাণকাজ গতকাল বুধবারও বন্ধ ছিল এবং নিষেধাজ্ঞা জারি করে টানানো ব্যানারটি নির্মাণাধীন ভবনে ঝুলছিল। বুধবার পর্যন্ত ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের মালিক যথাযথ কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতিপত্র দেখাতে পারেনি। ফলে সেখানে এখন শুধু পিলারগুলো দাঁড়িয়ে আছে এবং বের হয়ে রয়েছে পিলারের রডগুলো। একই দিন কুয়াকাটায় আরও দুটি হোটেলের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো, বিশ্বাস বিল্ডার্সের মালিকানাধীন বিচ পয়েন্ট ও মো. সিদ্দিকুর রহমানের মালিকানাধীন শশী মহল।
‘ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া, একাধিক ব্যক্তির মালিকানা দাবিদার ও আদালতে মামলা প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিবার তাঁর মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
রিসোর্ট নির্মাণকাজের স্থানীয় প্রতিনিধি মো. মনির মুসল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘যারা কাজ বন্ধ করেছেন তারাই তো তথ্য আপনাদের দিয়েছেন। এরপর তো আমার কাছে আর কোনো তথ্য থাকার কথা নয়। আমি আইনের বিপক্ষে গিয়ে কাজ করতে পারব না। আমি যদি অনুমতিপত্র নিয়ে ইউএনওর কাছে আত্মসমর্পণ করি তাহলে উনি আমাকে কাজের অনুমতি দেবেন, এতটুকুই।’ তিনি বলেন, মামলা যে কেউ করতে পারে, মামলা করা তাঁর মৌলিক অধিকার। আদালতের রায়ে জমি পেলে তিনি নিয়ে নেবেন, না পেলে নেবেন না। এ নিয়ে কথা বলার কিছু নেই।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মো. আরিফুজ্জামান বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র না থাকায় ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, বিচ পয়েন্ট ও শশী মহলের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এদের কারও বিভাগীয় কমিশনারের অনুমতিপত্র ছিল না। অনুমতিপত্র দেখাতে পারলে নির্মাণকাজে কোনো বাধা থাকবে না।
চলতি বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কুয়াকাটা পৌর এলাকার মুসল্লীয়াবাদ গ্রামসংলগ্ন এলাকায় ‘ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ নির্মাণকাজ শুরু হয়। কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজার এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানে প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিতে গড়ে উঠছে ‘ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর এই প্রকল্প। ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকায় প্রায় ৬ একর জমি নিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে একটি মসজিদ ও কনভেনশন হলের নির্মাণকাজও চলছিল। কিন্তু ছিল না যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র। এর ফলে গত মঙ্গলবার ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, বিচ পয়েন্ট ও শশী মহলের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। এ সময় নিষেধাজ্ঞার একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। যাতে লেখা রয়েছে, ‘এই স্থাপনাটি যথাযথ অনুমোদন ব্যতীত নির্মাণের কারণে নির্দেশক্রমে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আদেশক্রমে-কুয়াকাটা পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন, কলাপাড়া, পটুয়াখালী।
- বিষয় :
- কুয়াকাটা
- জামায়াতে ইসলামী
- এমপি