ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ভাঙা-গড়ার খেলায় তানভীর

ভাঙা-গড়ার খেলায় তানভীর
×
×

নন্দন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে চান না অভিনেতা আবু হুরায়রা তানভীর। কখনও প্রেমে ব্যর্থ, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এক তরুণ; কখনও ক্ষমতার অপব্যবহার করা ধনী ব্যক্তি; আবার কখনও প্রতারণার জাল বিস্তার করা ব্যবসায়ী। চরিত্রের ধরন বদলানোর পাশাপাশি বদলে নিচ্ছেন অভিনয়ের প্রকাশভঙ্গিও। পর্দায় নেতিবাচক চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি যেমন নজর কেড়েছে, তেমনি রোমান্টিক ও আবেগনির্ভর চরিত্রেও দেখিয়েছেন ভিন্নতা। অভিনয়ে নিজেকে বারবার ভাঙা ও নতুন করে গড়ে তোলার এই চেষ্টা তানভীরের কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অভিনেতা হিসেবে তানভীরকে অনেক সময় নেতিবাচক চরিত্রে দেখা যায়। তবে এ ধরনের চরিত্রে বেশি প্রস্তাব পেলেও নিজেকে শুধু ‘ভিলেন’ পরিচয়ে আটকে রাখতে চান না তিনি। চরিত্রের ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক দিকের চেয়ে সেটি গল্পে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তাঁর কাছে বেশি বিবেচ্য। এ কারণে প্রচলিত নায়ক-খলনায়কের বিভাজনের বাইরে গিয়ে চরিত্র নির্বাচনে বৈচিত্র্য খোঁজেন এই অভিনেতা; যার উদাহরণ ‘ক্রিমিনালস’ ওয়েব ফিল্ম। এতে রুশু রহমান নামে এক বহুমুখী প্রতারকের চরিত্রে অভিনয় করেন তানভীর। চরিত্রটি একজন বহুতল বিপণন ব্যবসায়ী, যে কথার জাদুতে মানুষকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করে এবং তাদের অর্থ আত্মসাৎ করে। এখানে অপরাধী চরিত্রটির বাহ্যিক আকর্ষণ ও মানুষের সঙ্গে প্রতারণার কৌশল–দুই দিকই তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। একইভাবে ‘ওমর’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন ক্ষমতার অপব্যবহার করা এক ধনী ব্যক্তির চরিত্রে। অন্যদিকে সঞ্জয় 

সমাদ্দার পরিচালিত ওয়েব ফিল্ম ‘পয়জন’-এ দেখা গেছে ভিন্ন এক তানভীরকে। 
চরিত্রের মনস্তত্ত্ব নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কখনও কখনও অভিনয়ের চাপও অনুভব করেন তানভীর। জাহিদ প্রীতমের ‘তিলোত্তমা’য় তাঁর চরিত্রটি ছিল প্রেমে ব্যর্থতার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এক তরুণের। চরিত্রটির আবেগ ও মানসিক সংকট এতটাই তীব্র ছিল যে, শুটিং শেষ হওয়ার পরও তা থেকে বেরিয়ে আসতে প্রায় ১০ দিন সময় লেগেছিল তাঁর। পরে সিনেমা দেখা ও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করেন। 
পর্দায় একটি চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অভিনেতাকে তাঁর আবেগের কাছাকাছি যেতে হয়; আবার কাজ শেষে সেই চরিত্র থেকে নিজেকে আলাদা করাও জরুরি। তানভীরের মতে, তিনি পর্দায় ইতিবাচক-নেতিবাচক নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেন, কিন্তু সেসব চরিত্রের কোনোটিই তাঁর নিজের পরিচয় নয়। তাই একটি চরিত্রের কাজ শেষ হলে সেটি পেছনে ফেলে নতুন চরিত্রের প্রস্তুতি নিতে চান তিনি। 
তানভীরের অধিকাংশ কাজই পরীক্ষামূলক ঘরানার বলে জানিয়েছেন তিনি। কমেডির তুলনায় সিরিয়াস গল্পে অভিনয়ের প্রস্তাব বেশি পান। তবে একই ধরনের চরিত্রে বারবার অভিনয় না করে নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে চান। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়াকে সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি মনে করেন না তিনি; বরং অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে দর্শকের কাছে পৌঁছাতে চান। তাঁর ভাবনায়, সাময়িক জনপ্রিয়তার চেয়ে দীর্ঘদিন দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়াটা একজন অভিনয়শিল্পীর  বড় অর্জন। 

আরও পড়ুন

×