ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

অন্ধকারের সাম্রাজ্যে নারীর লড়াই

অন্ধকারের সাম্রাজ্যে নারীর লড়াই
×
×

‘আক্কা’ সিরিজে কৃতি সুরেশ ও রাধিকা আপ্তে

উপমা পারভীন

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

নারীর শাসনে গড়ে ওঠা এক অপরাধ জগতের ক্ষমতা, উত্তরাধিকার আর প্রতিশোধের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ক্রাইম থ্রিলার সিরিজ ‘আক্কা’। এতে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে পর্দায় হাজির হচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে ও দক্ষিণি তারকা কীর্তি সুরেশ। আশির দশকের পটভূমিতে নির্মিত সিরিজটিতে দুই অভিনেত্রীকে দেখা যাবে দুই প্রভাবশালী নারীর চরিত্রে। একজন নিজের সাম্রাজ্য ও ঐতিহ্য রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, অন্যজন সেই প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতাকাঠামোকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত। দুই নারীর এই 
মুখোমুখি অবস্থান থেকে তৈরি হয়েছে গল্পের মূল দ্বন্দ্ব। ‘আক্কা’র গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের কাল্পনিক শহর পের্নুরু। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই শহরে নারীরা ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। তাদের হাতে গড়ে উঠেছে অপরাধ জগতের নিজস্ব শাসনব্যবস্থা। এখানে ক্ষমতা কেবল প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম নয়; বরং তা ধরে রাখার সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের সম্মান, ব্যক্তিগত স্বার্থ ও দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত নিয়ম। সেই ব্যবস্থায় বাইরের এক শক্তির আগমন পরিস্থিতি বদলে দেয়। পুরোনো কর্তৃত্বের ভিত নড়ে ওঠে, সামনে আসে গোপন দ্বন্দ্ব ও হিসাব-নিকাশ। শুরু হয় ক্ষমতা দখলের লড়াই, যেখানে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার পাশাপাশি নিজেদের অবস্থানও টিকিয়ে রাখতে হবে। 
গল্পের দুই প্রধান চরিত্র ভবানী ও রুদ্র। সিরিজটিতে ভবানীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কীর্তি সুরেশ, আর রুদ্র হয়েছেন রাধিকা আপ্তে। ভবানী নিজের সাম্রাজ্যের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে চান। তাঁর কাছে উত্তরাধিকার কেবল অতীতের স্মৃতি নয়; বরং নিজের পরিচয় ও ক্ষমতার ভিত্তি। অন্যদিকে রুদ্রের প্রচলিত নিয়ম ভাঙার মানসিকতা তাঁকে ভবানীর মুখোমুখি দাঁড় করায়। একদিকে প্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থা রক্ষার চেষ্টা, অন্যদিকে সেই ব্যবস্থাকে বদলে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা–দুই বিপরীত অবস্থান থেকেই 
এগিয়ে যায় কাহিনি। ফলে তাদের লড়াই কেবল ক্ষমতার দখলে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে বিশ্বাস, আনুগত্য ও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন। পরিস্থিতির চাপে কে কতটা আপস করবেন, আর কে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন, তা নিয়েও তৈরি হয় টানাপোড়েন। 
ভবানী চরিত্রটি কৃতি সুরেশের ভাষ্য, ভবানী জানেন তিনি কীসের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছেন এবং নিজের উত্তরাধিকার রক্ষায় কত দূর যেতে পারেন। তবে তাঁর কর্তৃত্ব ও দৃঢ়তার আড়ালেও রয়েছে কঠিন কিছু সিদ্ধান্তের চাপ। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য তাঁকে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, সেগুলো চরিত্রটির নানা দিক উন্মোচন করে। কীর্তির মতে, ভবানীকে শুধু ক্ষমতাশালী একজন নারী হিসেবে দেখলে তাঁর চরিত্রের জটিলতা পুরোপুরি বোঝা যাবে না। নিজের অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি তাঁকে সম্পর্ক, দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মধ্যেও ভারসাম্য খুঁজতে হয়। রাধিকা আপ্তের চরিত্র রুদ্রও প্রচলিত অর্থে একমাত্রিক নয়। নিজের অভিনীত চরিত্র প্রসঙ্গে রাধিকার বক্তব্য, রুদ্র প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত। তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। তবে ক্ষমতার এই লড়াইয়ে শুধু শক্তি বা সাহসই যথেষ্ট নয়; প্রতিটি পদক্ষেপের পরিণতি বিবেচনা করাও জরুরি। অভিনেত্রীর ভাষ্য, ‘আক্কা’র সংঘাত শুধু কে ক্ষমতায় থাকবে, সেই প্রশ্নে আটকে নেই; বরং প্রতিটি চরিত্রের বিশ্বাস, আনুগত্য ও ব্যক্তিগত স্বার্থও এই দ্বন্দ্বকে প্রভাবিত করে। কীর্তির সঙ্গে প্রথমবার একসঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতাকে আনন্দদায়ক বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। দুই অভিনেত্রীর অভিনয়শৈলী ও চরিত্রের ভিন্নতা পর্দায় সংঘাতের আবহকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। 
সিরিজটির চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক ধর্মরাজ শেট্টি। ‘আক্কা’র মাধ্যমে নির্মাতা হিসেবে অভিষেক হচ্ছে তাঁর। গ্যাংস্টার ঘরানার পরিচিত গল্পের বাইরে গিয়ে নিজস্ব একটি জগৎ তৈরি করাই ছিল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। নির্মাতার ভাষ্য, এমন কিছু চরিত্র ও সম্পর্ককে তিনি গল্পের কেন্দ্রে আনতে চেয়েছেন, যেগুলো সাধারণত এই ঘরানার কাহিনিতে তেমন গুরুত্ব পায় না। তাঁর পরিকল্পনায় পের্নুরু শুধু অপরাধের পটভূমি নয়; এটি এমন একটি সমাজ, যেখানে ক্ষমতার নিজস্ব নিয়ম রয়েছে এবং সেই নিয়মের সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার সংঘাত তৈরি হয়। 
কীর্তি ও রাধিকা ছাড়াও সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন তানভি আজমি, মহেশ মাঞ্জরেকর, অংশুমান পুষ্কর, মনিকা পাওয়ারসহ আরও অনেকে। আগামীকাল নেটফ্লিক্সে মুক্তির মধ্য দিয়ে দর্শক দেখতে পাবেন, দুই শক্তিশালী নারীর এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার কর্তৃত্ব টিকে থাকে এবং নিজেদের সাম্রাজ্য রক্ষার পথে তাদের কতটা মূল্য দিতে হয়। 

আরও পড়ুন

×