মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধা, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ সমাবেশ
পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:৩১ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:৩৫
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পিরোজপুর সদর কমান্ড ইউনিট।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় পিরোজপুর শহরের উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর গার্ড অব অনার ও তার লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পিরোজপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ শহীদুল হক চান, জেলা ইউনিট কমান্ড আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সরদার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম পিরোজপুর জেলার আহ্বায়ক গাজী কামরুজ্জামান শুভ্র।
এ সময় সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলাইমান মল্লিক (বীর প্রতীক), জেলা ইউনিট কমান্ড আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান ধরানী, সদর উপজেলা কমান্ড ইউনিটের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমেদ, সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী সরদারসহ পিরোজপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং পৌরসভার বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা উপস্থিত ছিলেন।
মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ শহীদুল হক চান বলেন, মানিক পশারী একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে ৯নং সেক্টরের সাবসেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন আহম্মেদের নির্দেশে মানিক পশারী ও তার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েজ উদ্দিন পশারী নৌকায় করে পিরোজপুর এলাকা থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সুন্দরবনে এবং ভারতে ট্রেনিংয়ের জন্য নিয়ে যেতেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বহু শরণার্থীদের তিনি নৌকায় করে ভারতে নিয়ে গেছেন। আর এসব কাজে সে সময়ে মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ তাদের নিয়োজিত করেন।
আহমেদ শহীদুল হক চান আরও বলেন, ১৯৮০ সালে তিনি (আহমেদ শহীদুল হক চান) পিরোজপুর মহকুমা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিটের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে মানিক পশারীকে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়।
মানিক পশারীর মৃত্যুর পরে তাকে গার্ড অব অনার ও লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার নিন্দা জানিয়ে আহমেদ শহীদুল হক চান বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধা দিয়ে সব মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মান করা হয়েছে। দেশ-মাতৃকার যারা স্বাধীন করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া একজন মুসলমানকে মৃত্যুর পরে তার লাশ দাফনে বাধা দিয়ে ইসলাম বিরোধী কাজ করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ অক্টোবর মারা যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হওয়ার কারণে সরকারি তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও পিরোজপুরের মাটিতে তার দাফনে বাধা দেয় জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীরা।
পরে পুলিশের নিরাপত্তার মধ্যে এদিন বিকেলে পিরোজপুর পুলিশ লাইন্সে তার গার্ড অব অর্নার দেওয়া হয় এবং রাত ২টায় পুলিশ প্রহরায় মানিক পশারীর এক মেয়ে ও দুই বোন গ্রাম পুলিশের সহায়তায় মোবাইলের আলোতে কবর খুঁড়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন করে। এর আগে, শনিবার দুপুরে প্রথমবার স্বজনেরা কবর খুঁড়লেও তা স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা সেখানে গিয়ে কবরের স্থানটি মাটি দিয়ে ভরে ফেলে।
- বিষয় :
- পিরোজপুর