ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বায়েজিদে যুবদলকর্মী জীবন খুনের মামলায় আসামি আরেক যুবদল নেতা

বায়েজিদে যুবদলকর্মী জীবন খুনের মামলায় আসামি আরেক যুবদল নেতা
×
×

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:০১

চট্টগ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত যুবদল কর্মী আবু ইউসুফ ওরফে জীবন (২৭) মারা গেছেন। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জুয়েলকে প্রধান আসামি করে ২৫ জনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা করেছেন জীবনের মা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) আইসিইউতে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে নিজ বাসায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রামের পূর্ব মাদারবাড়ি এলাকার আওয়ামী লীগ নেত্রী নূর নাহারের। তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন খোয়া গেছে। বাসায় দিনের বেলায় তিনি একা থাকতেন। তার মৃত্যুও কারণ নিশ্চিত হতে পারছে না পুলিশ।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক বলেন, পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জীবনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের সময় তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে জীবনসহ কয়েকজন আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় ইকরাম বাবু, আরমান, মেহেদী ও নাবিদসহ ১৩ থেকে ১৪ জনের একটি দল সেখানে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে ছুরি ও পিস্তল, মাথায় হেলমেট ছিল। 

স্থানীয়রা জানায়, হামলাকারীরা প্রথমে জীবনকে মারধর করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার একপর্যায়ে ইকরাম বাবু তার পা লক্ষ্য করে গুলি করে। এরপর হত্যার হুমকি দিয়ে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে আহত অবস্থায় জীবনের ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তিনি ইকরাম বাবু ও আরমানের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাত ও গুলি করার অভিযোগ করেন।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ঘটনার পরদিন জীবনের মা বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলায় যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জুয়েলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবনের মৃত্যু হওয়ায় দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হবে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চমেক মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিজ বাসায় আওয়ামী লীগ নেত্রীর রহস্যমৃত্যু

নগরের সদরঘাট থানার পূর্ব মাদারবাড়ি এলাকায় নিজ বাসা থেকে নূর নাহার (৭৫) নামের এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় পূর্ব মাদারবাড়ি এলাকার সরকারি পুকুরপাড় সংলগ্ন বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। তার মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলা সম্পাদিকা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হলেও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় জানায়, নূর নাহার বাসায় দিনের বেলায় একাই থাকতেন। তার এক ছেলে প্রায় ৪৫ দিন আগে ব্লাড ক্যান্সারে মারা গেছেন। আরেক ছেলে চাকরি করেন। তিনি সকাল সাতটার দিকে কর্মস্থলে চলে যান। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরেন। বুধবার সকালে চাকরিতে যাওয়ার সময় ছেলের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তার এক মেয়ের শ্বশুরবাড়ি ঢাকায়।

সদরঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় নূর নাহারের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দুটি মুঠোফোন পাওয়া যাচ্ছে না। বাসার পেছনের লোহার দরজাটি খোলা থাকার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ওই দরজা দিয়ে মূলত বাসার ভাড়াটেরা যাতায়াত করতেন। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। এখনই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন

×