পায়ের ঘষায় উঠে গেল সড়কের কার্পেটিং
পাঁচবিবি উপজেলার গলাকাটা-আংড়া সড়কে সদ্যনির্মিত কার্পেটিং উঠে গেছে সমকাল
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:১৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় সদ্যনির্মিত কার্পেটিং সড়ক নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে এবং নিয়ম মেনে কাজ সম্পন্ন হওয়ার দাবি করা হলেও, সপ্তাহ না যেতেই পায়ের ঘষায় সড়কের পিচ-পাথর উঠে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে নামমাত্র এই কাজ করায় এবং এর পেছনে ঠিকাদারের সঙ্গে প্রকৌশলীর যোগসাজশ থাকার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
এলজিইডি ও শিডিউল সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচবিবি উপজেলার গলাকাটা থেকে আংড়া পর্যন্ত ১ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের কাজটি পায় স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘লিনা এন্টারপ্রাইজ’। কার্যাদেশ পাওয়ার পর সম্প্রতি তারা কাজ শেষ করে।
স্থানীয় দাউদপুর গ্রামের আব্দুল জলিল, মোয়াজ্জেম হোসেনসহ ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা জানান, কাজের শুরুতে ইটের বদলে মাটি ও রাবিশ দেওয়ায় তারা বাধা দিয়েছিলেন। তখন ঠিকাদার ও উপস্থিত প্রকৌশলী ভালো কাজের প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত অনিয়মের মাধ্যমে কাজ শেষ করেন। ফলে মাত্র এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই হাতের বা পায়ের ঘষায় পিচ উঠে যাচ্ছে। এই ‘পুকুরচুরি’র প্রতিবাদে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ফেসবুকে ভিডিও ও ছবি দেখে গত রোববার বিকেলে ঠিকাদার শতাধিক লোক নিয়ে আকস্মিক সড়ক পরিদর্শনে গেলে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে।
পরবর্তী সময়ে পাঁচবিবি পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল ফেরদৌস রাইট নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ফেসবুক লাইভ দেখে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং বাস্তবেও সড়কের কার্পেটিং কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন। আটাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ স ম আরেফিন চৌধুরী আবু এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে মানসম্মত পুনর্নির্মাণের অনুরোধ জানান।
এদিকে সব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে লিনা এন্টারপ্রাইজের কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা মাহাবুব ইলাহী দাবি করেন, গ্রামবাসীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর ভাষ্যমতে, আবহাওয়াজনিত কারণে কার্পেটিংয়ের পর বিটুমিন জমতে একটু সময় লাগে; নির্দিষ্ট সময় পার হলে রডের শাবল দিয়েও পিচ তোলা সম্ভব হবে না।
উপজেলা প্রকৌশলী মাহামুদুল হাসান দাবি করেন, কার্পেটিং সঠিক ও টেকসই মানেরই হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে যেগুলো ছড়ানো হচ্ছে, তা স্থানীয় কিছু লোক ইচ্ছেমতো তুলে ধরে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
- বিষয় :
- সড়ক