ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

নাফ নদে বাঁধ

১০ বছরে কাজ ৫৩ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি ২৭৪ কোটি টাকা

১০ বছরে কাজ ৫৩ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি ২৭৪ কোটি টাকা
×
×

নাফ নদ

 আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪৪ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদের তীরে সীমান্ত বাঁধ নির্মাণে তিন বছরের প্রকল্প ১০ বছরে গড়িয়েছে। ব্যয় বেড়েছে ২৭৪ কোটি টাকা। অথচ কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৫৩ শতাংশ। নির্মাণের দুই বছর না যেতেই বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে রোপণ করা গাছের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাউবোর কর্মকর্তাদের কারণে তিন বছরের প্রকল্পের মেয়াদ বাড়তে বাড়তে ১০ বছরে ঠেকেছে। প্রথমে ১৪১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হলেও পরে এর ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৪১৫ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২০ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই ১৫টি খাল খনন, আরসিসি বক্স আউটলেট, বাঁধের ওপর এইচবিবি ইটের রাস্তা, তিনটি ব্রিজ-কালভার্ট ও ২০টি বে (বাঁধের পাশে গাড়ি বা যান থামার স্থান) নির্মাণসহ কিছু নতুন কাজ যুক্ত করে সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রকল্পের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচজন প্রকল্প পরিচালক দায়িত্ব পালন করেছেন। তবু কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই। ৯ বছরে কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৫৩ শতাংশ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৪১৫ কোটি ৫৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। গত ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২২২ কোটি ৫৭ লাখ ২ হাজার টাকা, যা মোট ব্যয়ের ৫৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। 

উন্নয়নকাজে ধীরগতি
নাফ নদের তীরজুড়ে নেওয়া প্রকল্পের ৪৩টি ভৌত প্যাকেজের (গুচ্ছ) মধ্যে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ২৪টির কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্প শুরুর ৯ বছর পার হলেও একটি প্যাকেজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। চলতি বছর অন্য ১৮টি প্যাকেজের কার্যাদেশ দেওয়া হলেও সেগুলোর কাজ এখনও শুরু হয়নি। এভাবে সীমান্তবাঁধ নির্মাণ, ইটের রাস্তা (এইচবিবি) নির্মাণ, খাল খননসহ অন্যান্য কাজের ধীরগতির চিত্র সামনে আসছে। 

কার্যাদেশ পাওয়ার পর বছরের পর বছর কাজ না করায় তিনটি প্যাকেজের ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করতে চট্টগ্রাম পাউবোর প্রধান প্রকৌশলী নির্দেশ দেন। কিন্তু এক বছরেও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি কক্সবাজার পাউবো। 

পাউবোর দাবি, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে উখিয়া হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম পর্যন্ত ৬১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটারের মধ্যে ৬১ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার মাটির বাঁধ নির্মাণ শেষ হয়েছে। বাঁধের ওপর এইচবিবি রাস্তার ৫২ কিলোমিটারের মধ্যে ৩৬ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে।

পানি নিষ্কাশনের জন্য ৩৩টি রেগুলেটর (স্লুইসগেট) নির্মাণের অনুমোদন পেলেও শেষ মুহূর্তে ১৩টি বাদ দেওয়া হয়। ২০টির মধ্যে ৯ বছরে কাজ শেষ হয়েছে মাত্র চারটির। ১৫টি খালে ২৫ কিলোমিটার পুনর্খননের কথা থাকলেও খনন করা হয়েছে সোয়া ১৩ কিলোমিটার। ছয়টি আরসিসি বক্স আউটলেট নির্মাণের জন্য চলতি বছর কার্যাদেশ দেওয়া হলেও কাজ শুরু হয়নি।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পাঁচ ও ১৫ কোটি টাকায় দুটি স্লুইসগেট নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স আল মামুন এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদার ফখরুল আলম বলেন, ‘কার্যাদেশ পাওয়ার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু করি। উলবুলিয়া খালের স্লুইসগেটের বেইজসহ অর্ধেক কাজ শেষও করেছি। প্রথম দিকে স্থানীয় মানুষ সহযোগিতা করলেও পরে হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দেন। স্লুইসগেট লাগবে না, ব্রিজ করতে হবে বলে দাবি করেন। তারপর থেকে তারা কাজ করতে দিচ্ছেন না।’

ফখরুল আলম আরও বলেন, ‘মিনা বাজার এলাকার চিংড়ি খালে আরেকটি স্লুইসগেটের কাজ পেলে স্থানীয় প্রভাবশালী মেম্বার নুরুল কবির এলাকায় মাছ চাষের ক্ষতি হবে, অন্য জমির ক্ষতি হবে বলে কাজ বন্ধ করে দেন। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকৌশলীরা তাঁর সঙ্গে কথা বললেও এক বছর ধরে কাজ করতে দিচ্ছেন না মেম্বার।’ 

৩০ কোটি টাকায় তিনটি স্লুইসগেট নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স মারক্রো নোনা নামে একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা জায়, তারা স্থানীয়দের বাধায় উচিংপাং বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় এক বছর ধরে কোনো কাজ করতে পারেননি। এক্সক্যাভেটর নিয়ে কাজ করতে গেলেই স্থানীয়রা বাধা দেন। পা কেটে ফেলার হুমকি দেন। তাই কাজ পড়ে আছে। তবে তাদের জিম্মনখালী ও তাইংখালী খালের স্লুইসগেটের কাজে ১০ শতাংশ করে অগ্রগতি হয়েছে। এ বিষয়ে ঠিকাদার ফাহিম সুলতান বহুমুখী সংকটের মুখে আছেন স্বীকার করলেও মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

আরেক ঠিকাদার ননী কুমার বলেন, ‘আমি পালংখালীতে ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ তৈরি করেছিলাম আরও তিন বছর আগে। তখন খুব বেশি সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করে পাউবোকে বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি।’  
প্রকল্প পরিচালক হিসেবে আগে দায়িত্ব পালনকারী নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজীর সাইফ আহমেদ বলেন, সীমান্ত বাঁধ প্রকল্পের অগ্রগতি না হওয়ার পেছনে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মানুষের হাত রয়েছে। তারা কোনো স্লুইসগেট করতে দিচ্ছেন না। কারণ নদী থেকে নৌকায় করে খাল দিয়ে সহজে লোকালয়ে ইয়াবা পাচার করা হয়। স্লুইসগেট হলে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। 

দুই বছর না যেতেই বেড়িবাঁধে ক্ষত
গত ২৬ সেপ্টেম্বর শাহপরীর দ্বীপের গোলারপাড় এলাকায় গিয়ে নাফ নদের তীরে নতুন বেড়িবাঁধে প্রায় ২০০ ফুটের ভাঙন দেখা যায়। লোকালয়ে পানি প্রবেশ ঠেকাতে ভাঙনস্থলে ১০টি জিও ব্যাগের টিউব দেওয়া হয়। আরেকটু সামনে বিজিবি ক্যাম্পের পাশে বাঁধের ডান দিকের একাংশ ভেঙে নদীতে মিশে গেছে। সেখান থেকে ৫০ ফুট সামনে এগোলে জেটিঘাট এলাকায় বাঁধের দুই পাশের মাটি ধসে সৃষ্ট বড় বড় গর্ত দেখা যায়। জালিয়াপাড়ার বাঁধেও একই চিত্র চোখে পড়ে।

দ্বীপ পেরিয়ে টেকনাফ পৌরসভার পাশে জাদিমোড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ মাটির বাঁধটিও বেহাল। দুই বছর আগে তৈরি করা বাঁধ ভেঙে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় গাছের চারা রোপণের কথা বলা হলেও এগুলোর অস্তিত্ব চোখে পড়েনি। কাজের গুণমান ঠিক না থাকায় বাঁধের এমন অবস্থা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। 

বাঁধসংলগ্ন জাদিমোড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘দুই বছর আগে এখানে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। বাঁধে কাদা মাটি ব্যবহার করায় এটি টিকছে না। সামান্য বৃষ্টিতে বাঁধের মাটি জমি ও খালে নেমে গেছে। ঠিকাদাররা ঠকবাজির কাজ করেছেন। বাঁধের ওপর ইটের রাস্তাও হয়নি। বাঁধে কোনো গাছ লাগাতে দেখিনি।’

জাদিমোড়া থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে লেদা খাল। খালটি খননের কথা বলা হলেও তার নমুনা বা চিহ্ন চোখে পড়েনি। খালের দুই পাড়ে মাটির স্তূপ নেই। ঝোপঝাড় আর আবর্জনা– প্লাস্টিকের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে খালটি।

খালপাড়ের লেদা বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এক-দেড় বছর আগে এক্সক্যাভেটর দিয়ে দুই-তিন দিন খাল থেকে কিছু বালু, ময়লা-আবর্জনা তোলা হয়। সামান্য মাটি কাটা হয়। তারপর আর কাজ করতে দেখিনি। তখন আমরা মনে করেছি, খালের আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। এখন শুনছি খাল খনন করেছে। বিষয়টা রহস্যজনক।’

বাঁধে ১০ লাখ টাকার গাছের অস্তিত্ব নেই
শাহপরীর দ্বীপ থেকে শুরু করে নতুন বেড়িবাঁধজুড়ে একেকটি গাছের চারা রোপণে প্রায় ৮০১ টাকা খরচ করার কথা বলেছে পাউবো। কাগজে-কলমে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে এক হাজার ২৪৮টি গাছ লাগানো হয়। কিন্তু দুই বছর না যেতেই নতুন বেড়িবাঁধে একটি গাছেরও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। কোন নার্সারি থেকে চারা কেনা হয়েছিল, তা-ও জানাতে পারেননি পাউবো কক্সবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা।

টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) শাহপরীর দ্বীপ এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, পাউবো বাঁধটি ভালোভাবে তৈরি করেনি। কাজ করার কিছুদিন পরই ব্লক দেবে যায়। কয়েক স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে। বাঁধ নির্মাণের পর গোলারপাড় ও জেটিঘাট এলাকায় পাউবো কোনো গাছ লাগায়নি। একই কথা বলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুস সালাম।

৯ বছরে পাঁচজন প্রকল্প পরিচালক বদল
২০১৭ সালে প্রকল্পের শুরুতে প্রকৌশলী সবিবুর রহমান প্রকল্প পরিচালক ছিলেন। কিছুদিন পর তিনি বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর দায়িত্ব নেন তয়ন কুমার ত্রিপুরা। তিনিও কয়েক বছর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর একে একে প্রবীর কুমার গোস্বামী, তানজীর সাইফ আহমেদ ও আসিফ আহমেদ প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারপরও কাজে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।

সর্বশেষ প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেলার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু রায়হান। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় কিছু সমস্যার কারণে প্রকল্পটি দ্রুত এগোচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি কীভাবে বাকি কাজগুলো দ্রুত শেষ করা যায়। কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারদের কাজ শুরু করতে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।’ 

ডকুমেন্টারি ও সম্মানীতে খরচ ১২ লাখ টাকা
বছরের পর বছর কেটে গেলেও উন্নয়নকাজ ঠিকমতো হচ্ছে না। কিন্তু প্রকল্পের নানা খাতে খরচ হচ্ছে। বাঁধের উন্নয়নকাজের ছবি-ভিডিও ধারণ এবং বিভিন্ন সভার ছবি তুলে ‘ভিডিও ডকুমেন্টারি’র নামে দুই লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এ ছাড়া মৌজা ম্যাপ কেনা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণে ৭০ লাখ টাকা, সিল, স্ট্যাম্প ও স্টেশনারি কেনায় পাঁচ লাখ টাকা, সম্মানীর নামে ২০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ভ্রমণে পেট্রোল ও লুব্রিকেন্ট কেনায় ১০ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে।

পাউবো কক্সবাজারের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সালাহ উদ্দীন আহমদ বলেন, ‘প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৫৩ শতাংশ। মেয়াদ ২৭ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। ৪৩টি ভৌত প্যাকেজের মধ্যে ১০টি প্যাকেজের কাজ শেষ হয়েছে। এখন ৩২টি প্যাকেজের কাজ চলমান রয়েছে। সম্প্রতি কিছু প্যাকেজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তিন প্যাকেজের ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিল করার নির্দেশ দিলেও তারা পুনরায় কাজ শুরু করায় বাতিল করা হয়নি। স্থানীয় নার্সারি থেকে ১০ লাখ টাকা গাছ কিনে বাঁধে লাগানো হয়। লবণ পানি ও মাটির কারণে গাছগুলো মরে গেছে। তাই বাঁধে গাছ নেই।’ গাছ না লাগিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়নি বলে দাবি করেন এই প্রকৌশলী।

এক প্রশ্নের জবাবে সালাহ উদ্দীন বলেন, বিভিন্ন সভা ও কাজের ছবি, ভিডিও তুলে দুই লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। সভার সম্মানী হিসেবে ২০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

কক্সবাজার উপকূলীয় বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা বশির আহমদ খান বলেন, ‘পাউবোর তৈরি বাঁধে বন বিভাগ নিজস্ব অর্থায়নে বনায়ন করছে। নতুন বাঁধে পাউবো কোনো গাছ রোপণ করেনি। বাঁধের জাদিমোড়া এলাকার পাঁচ কিলোমিটার বাঁধে ২০ হাজার গাছ লাগাচ্ছি। প্রতিটি গাছ লাগাতে ২০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। গাছে বেড়া, দুই-তিন বছর পরিচর্যা ব্যয় হিসাব করলে একটি গাছের পেছনে একশ টাকার বেশি খরচ হয় না।’

গত ২২ সেপ্টেম্বর সীমান্ত বাঁধ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। প্রকল্প নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে একটি প্রকল্প তিনবার সংশোধন করা হয়েছে। ২০১৭, ২০২২ ও ২০২৫ সালে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরপরও প্রকল্পটি জনগণের কাজে আসেনি।

মন্ত্রী বলেন, নাফ নদসংলগ্ন পোল্ডার পুনর্বাসন প্রকল্পটি এখন গলার কাঁটা হলেও নতুন করে কারিগরি সমীক্ষার মাধ্যমে কাজ শেষ করতে হবে। তাই জনস্বার্থ, সীমান্ত নিরাপত্তা, কৃষি, মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটি নতুনভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
 

আরও পড়ুন

×