ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

মাধবপুরে জাতীয় গ্রিড পাইপলাইন ছিদ্র করে তেল চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

মাধবপুরে জাতীয় গ্রিড পাইপলাইন ছিদ্র করে তেল চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়নি কেউ
×
×

ছবি: সংগৃহীত

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | ০১:১৫

হবিগঞ্জের মাধবপুরে জিটিসিএল নিয়ন্ত্রিত জাতীয় গ্রিডের দক্ষিণাঞ্চলীয় তেল পাইপলাইন ছিদ্র করে কনডেনসেট চুরির ঘটনায় গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। 

উপজেলার রতনপুর ডাক্তারবাড়ি এলাকায় ৪ নভেম্বর রাতে পাইপলাইন ছিদ্র করে তেল চুরির ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ পাইপলাইন থেকে এর আগেও একাধিকবার তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। একটি শক্তিশালী সংঘবদ্ধ চক্র এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত কয়েক বছরে রঘুনন্দন, রতনপুর জামতলা, নারায়ণপুর, সাতবর্গ, বোয়ালিয়া, শাহপুর ফরেস্ট অফিসসহ বিভিন্ন নির্জন এলাকায় পাইপলাইন কেটে তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়, হাওর ও বিলের মধ্য দিয়ে পাইপলাইনটি বিস্তৃত হওয়ায় বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে চোরচক্রের তৎপরতা বাড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাইপলাইনের নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়। মাত্র চারজন নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে দিনরাত পাহারার ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

নিরাপত্তাকর্মী শামসু মিয়া জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চলমান উন্নয়নকাজের সময় রতনপুর ডাক্তারবাড়ি এলাকায় ভেকু দিয়ে মাটি কাটার সময় তেলের পাইপ বের হয়ে আসে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তেল চুরি করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা। পাইপলাইন থেকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনের বাড়ি। ঘটনার রাতে তেলের গন্ধ পেয়ে তারা চুরির বিষয়টি শনাক্ত করেন। তিনি জানান, পাইপলাইনের পাশেই গ্যাসের লাইন রয়েছে। ফলে রতনপুরে পাইপলাইন ছিদ্রের ঘটনায় আগুন লাগায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এবং তেল ও গ্যাস লাইনের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

মামলার বাদী জাহেদ হোসেন জানান, সিলেটের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদিত কনডেনসেট পাইপলাইনের মাধ্যমে আশুগঞ্জের কনডেনসেট স্থাপনায় নেওয়া হয়। সংঘবদ্ধ চক্র মাটির গভীরে গর্ত করে লোহার পাইপ কেটে নতুন পাইপ সংযোগ দিয়ে তেল চুরি করেছে। এ ঘটনায় সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিন ও তাঁর লোকজন জড়িত বলে তিনি মামলা করেন।

জিটিসিএলের জিএম ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, উত্তর-দক্ষিণ জাতীয় তেল পাইপলাইন দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। স্থানীয় লোকজনকে দিয়ে লাইনটির নিরাপত্তায় কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু একটি চক্র সুযোগ পেলেই পাইপলাইন কেটে অপরিশোধিত তেল চুরির চেষ্টা করে। ৪ নভেম্বর রাতে অত্যন্ত কৌশলে তেল চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শামসু চৌধুরী জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন

×