মেয়ের লাশ তথ্যসেবা কেন্দ্রে, পরিবারের সবাই হাসপাতালে
তূর্ণা নিশীথা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের হাসপাতালে নেওয়া হয আহতদের- সমকাল
আব্দুন নূর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০১৯ | ০০:২৮ | আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০১৯ | ০৪:১৪
হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার সোহেল মিয়া, স্ত্রী, ২ সন্তান ও চাচাতো ভাইকে নিয়ে সিলেট থেকে চট্টগ্রামে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। এজন্য রাতে তারা আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেসে ওঠেন। ট্রেনে পরিবারের কেউ তখন ঘুমে, কেউবা আধোঘুমে। হয়তো স্বপ্নও দেখছিলেন। কিন্তু হঠাৎ তাদের জীবনের সব স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়ে যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নীশিথার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ কেড়ে তাদের কন্যাসন্তানকে। এ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৬ জনের মধ্যে রয়েছে সোহেল মিয়ার তিন বছরের মেয়ে সোহা মনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
মেয়ের লাশ নিয়ে যে বিলাপ করবেন সেই সুযোগও মেলেনি সোহেল ও তার স্ত্রীর। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন সোহেল মিয়াসহ অপর চারজন। দ্রুত তাদের পাঠানো হয় কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে তাদের নেওয়া হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আাসা সোহেল মিয়ার মামাতো ভাই মেজবাহ উদ্দীন জানান, নিহতদের লাশ হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা এখনও বাকি। এজন্য সোহার লাশ তথ্যসেবা কেন্দ্রে রেখেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে সোহেল, তার স্ত্রী, সন্তান ও চাচাতো ভাইকে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেজবাহ বলেন, কী থেকে কী হয়ে গেলো! মেয়ের লাশের কাছেও থাকতে পারছে ভাই। নিজে আহত হয়ে হাসপাতালে আর মেয়ের লাশ পড়ে আছে তথ্যসেবা কেন্দ্রে।
সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা আর সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষে কয়েকটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ১৬ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে।
