ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

গোবিন্দগঞ্জ

হাসপাতাল চত্বরে থইথই পানি, কলার ভেলায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা

হাসপাতাল চত্বরে থইথই পানি, কলার ভেলায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা
×

হাসপাতাল নদীর পানি ঢুকে পড়ায় অ্যাম্বুলেন্সের পরিবর্তে কলাগাছের ভেলা ব্যবহার করা হচ্ছে- সমকাল

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২০ | ০৯:০৯

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালী পয়েন্টে করতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ১০৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও ক্ষেতের ফসল। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এখন থইথই পানি। ফলে রোগী পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্সের পরিবর্তে কলাগাছের ভেলা ব্যবহার করা হচ্ছে।

রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারদিকে পানি থইথই। হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ নিচতলায় হাঁটুসমান পানি। বাইরে কোমরসমান পানি। গত চার দিনে কলাগাছের ভেলায় করে ৩০ জন প্রসূতির ডেলিভারি ও ছয়টি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল থেকে ২০০ গজ সামনে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক। হাসপাতালে সেবা নিতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন। রংপুর মহাসড়ক থেকে হাসপাতালের দিকে তাকালে সড়কের ওপর পানি আর পানি। ফলে রোগী পরিবহনে কলাগাছের ভেলা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এ কাজে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় কয়েকজন যুবক।

উপজেলার কোচারশহর থেকে আসা মোমেনা খাতুন জানান, তার মেয়ের প্রসব বেদনা ওঠায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছন। হাসপাতালের সামনে অনেক পানি থাকায় কিছু যুবক কলাগাছের ভেলা করে তাকে ভেতরে নিয়ে গেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুল মালেক জানান, অসুস্থ অবস্থায় তার ভাতিজাকে শনিবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে এসে পানির কারণে কলাগাছের ভেলা ব্যবহার করতে হচ্ছে।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রিয়াজ উদ্দিন জানান, আমি মনে করেছিলাম পানির কারণে হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারব না। পরে দেখি হাসপাতালে রোগী আনা-নেওয়ায় কলাগাছের ভেলা ব্যবহার করা হচ্ছে। ভেলার ওপর কাঠের তক্তা দেওয়া হয়েছে, যাতে রোগীরা সহজে বসতে পারেন।

কলাগাছের ভেলায় রোগী বহনকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা মানুষকে সেবা দিতে এই উদ্যোগ নিয়েছি। অনেকে খুশি হয়ে দশ-পাঁচ টাকা দেন। আমরা চাই হাসপাতালে এসে যেন সবাই সেবা পান, কেউ যাতে ফিরে না যান। তিনি বলেন, হাসপাতাল চত্বরে অনেক পানি। আমরা নিজেরা বন্যার পানিতে ভিজে রোগীদের হাসপাতালে যাতায়াতের ব্যবস্থা করছি। অনেক ডেলিভারির রোগী বা হাত-পা ড্রেসিং করা রোগীকে ভেলায় তুলে পারাপারের ব্যবস্থা করছি।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে গাইবান্ধা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রিক্তু প্রসাদ বলেন, এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসাসেবা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালে যাতায়াতে ভেলা সার্ভিস চালু মানবিকতার অন্যতম উদাহরণ।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মজিদুল ইসলাম ইসলাম বলেন, পানিবন্দি হাসপাতালে নৌকা আনার মতো পরিবেশ নেই। স্থানীয়দের কলাগাছের ভেলার এই ব্যবস্থাটি রোগী পারাপারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এদিকে করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার অনেক ওপরে থাকায় গাইবান্ধা জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ-ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের তিনটি পয়েন্ট পানিতে ডুবে থাকায় গতকালও কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। দীর্ঘদিন পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে থাকায় এবং ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে এক হাজার ১৫০ জনসহ করতোয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে কয়েকশ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। ২৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এ পর্যন্ত ত্রাণ এসেছে মাত্র ৩৫ টন চাল। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ১৬ হাজার ৮৬০ হেক্টর আমন, মাষকলাই ও সবজি ক্ষেত দীর্ঘদিন পানিতে নিমজ্জিত থাকায় ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

জেলা প্রশাসন থেকে গতকাল জানানো হয়েছে, গো-খাদ্য হিসেবে গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ি ও সাদুল্যাপুর উপজেলার জন্য তিন লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগে বন্যার্তদের জন্য চার লাখ ৮০ হাজার টাকা ও শিশুখাদ্য বাবদ এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।


আরও পড়ুন

×