ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাকপ্রতিবন্ধী যুবককে কুপিয়ে হত্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ০৮:৫০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গৃহবধূকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় সফিকুল ইসলাম নামে এক বাকপ্রতিবন্ধী যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০জন আহত হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের বৈষ্ণবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সফিকুল ওই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই যুবককে আটক করেছে।
পুলিশ জানায়, জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বৈষ্ণবপুর গ্রামের আবুল খায়েরের গোষ্ঠীর লোকজনের সাথে একই গ্রামের জামাল মিয়ার গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। কিছুদিন আগে স্থানীয়ভাবে সালিশ করে এই বিরোধের নিস্পত্তি করা হয়। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে আবুল খায়েরের গোষ্ঠীর রুবেল মিয়ার বাড়িতে যায় জামাল মিয়ার গোষ্ঠীর ইমাম হোসেন। একপর্যায়ে রুবেলের স্ত্রীকে ইমাম হোসেন জাপটে ধরার চেষ্টা করে। এ সময় বাকপ্রতিবন্ধী সফিকুল এ ঘটনার প্রতিবাদ করে। পরে রুবেলের বাড়িতে এসে ইমাম হোসেনকে আটক করে। এক পর্যায়ে ইমাম সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে তার গোষ্ঠির লোকজনকে জানায়, রুবেলের বাড়ির লোকজন তাকে আটকে রেখে মারধর করেছে। এ কথা শুনে জামাল মিয়ার গোষ্ঠির লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রুবেল মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায়।
এসময় বাকপ্রতিবন্ধী সফিকুল ইসলাম দোকানে যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষের লোকেরা তাকে কুপিয়ে আহত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের সংঘর্ষে ১০জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে সিরাজ মিয়া, আহাম্মদ আলী, আশেক মিয়া, বাদশা মিয়া, ইসমাইল মিয়া, রুবেল মিয়া, তাজুল ইসলাম, আহাদ মিয়া, শাবলু মিয়া, মুসা মিয়াকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল ও আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত্মের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছি। মেয়েলী ঘটনার জের ধরে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে।
