চট্টগ্রামে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে নিহত ৭
খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০১৯ | ২২:২০ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ০৮:৫৫
চট্টগ্রামের পাথরঘাটা এলাকায় গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় কমপক্ষে আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।
রোববার সকালে পাথরঘাটা ব্রিক ফিল্ড রোডের বড়ুয়া বিল্ডিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন-চট্টগ্রামের পটিয়ার মেহেরআটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অ্যানি বড়ুয়া (৪০), পাথরঘাটার বাসিন্দা জুলেখা খানম ফারজানা (৩০) ও তার ছেলে আতিকুর রহমান (৮), কক্সবাজারের উখিয়ার নুরুল ইসলাম (৩১), রিকশাচালক আব্দুর শুকুর (৫০) ও ভ্যানচালক মো. সেলিম (৪০)।

স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণে ওই ভবনের সীমানাপ্রাচীর ধসে রাস্তার ওপর পড়ে পথচারীরাও আহত হয়েছেন। এছাড়া ভবনের উল্টো দিকের জসীম বিল্ডিংয়ের নিচতলার দোকানও বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক পূর্ণচন্দ্র মুৎসুদ্দী সাংবাদিকদের বলেন, বড়ুয়া বিল্ডিংয়ের নিচতলায় সীমানা প্রাচীরের পাশেই ওই বাড়ির গ্যাস রাইজার, বিস্ফোরণটি সেখানেই হয়েছে। হয়ত রাইজারে কোনো সমস্যা ছিল, হয়ত লিকেজ থেকে গ্যাস বের হয়ে জমে গিয়েছিল। সকালে বাসায় রান্না করার সময় অথবা কারও ফেলা সিগারেটের আগুন থেকে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে আনা হয় গুরুতর দগ্ধ সাতজনকে। পরে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাসান শাহারিয়ার কবির জানান, সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এ ঘটনায় আহত হয়ে মোট ১৭ জন হাসপাতালে এসেছিলেন। তার মধ্যে মারা গেছেন সাতজন। নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী, চারজন পুরুষ ও একজন শিশু।
তিনি জানান, হাসপাতালে ১০ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের মধ্যে ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে পাঁচজন, বার্ন ইউনিটে দুইজন, নিউরোলজিতে একজন, অর্থোপেডিক বিভাগে একজন এবং কার্ডিওলজি বিভাগে একজন চিকিৎসাধীন।
জানা গেছে, বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অর্পিতা নাথের (১৫) অবস্থা সংকটাপন্ন। চিকিৎসকরা জানান, অর্পিতার শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার শ্বাসনালীতেও সংক্রমণ হয়েছে। ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে ভর্তি থাকা সন্ধ্যা রানী নাথের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
