ওষুধ প্রসাশনের ডিজি আসার খবরে দিনাজপুরের বেশিরভাগ ফার্মেসিতে তালা
তালাব্ধ সব ফার্মেসি -সমকাল
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২০ | ০৮:০৭
দিনাজপুরে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের আগমনের সংবাদে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলার বেশিরভাগ ফার্মেসি বন্ধ ছিল। এতে ওষুধ কিনতে আসা রোগী ও তার স্বজনরা চরম বিপাকে পড়েছিলেন।
সোমবার দুপুরে দিনাজপুর পর্যটন মোর্টের অডিটরিয়ামে একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে মডেল ফার্মেসি ও মডেল মেডিসিন শপের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনা শীর্ষক আলোচনা এবং নকল, ভেজাল, আনরেজিস্ট্রার্ড ও মেয়াদ উর্ত্তীণ ওষুধ প্রতিরোধে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুস।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, আগামী ২ বছরের মধ্যে দেশের এক লাখ ৫১ হাজার ফার্মেসিকে মডেল ফার্মেসিতে রুপান্তর করা হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশাতবার্ষিকীতে এই কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ওষুধ ব্যবস্থা বর্তমানে ঈর্ষাণীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। ৯০ শতাংশ ওষুধ বিক্রি হচ্ছে দেশেই আর বিশ্বের ১৪৮টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি করি। ইতোমধ্যেই দেশের ৩৭ হাজার ফার্মেসি মডেলের আওতায় এসেছে এবং ৫০ হাজার ফার্মেসি মডেল মেডিসিন শপের আওতায় এসেছে।
ডিজি বলেন, ফার্মেসি লাইসেন্স ব্যতীত, প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোথাও ওষুধ বিক্রি করা যাবে না। এজন্য ওষুধ প্রশাসন কাজ করছে এবং ২৭ হাজার লাইসেন্সবিহীন দোকান শনাক্ত হয়েছে। ১১ কোটি ৬৯ টাকার জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ৩৭ কোটি টাকার মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ নষ্ট করা হয়েছে। ওষুধের দোকানে অন্যকোন পণ্য বিক্রি করা যাবে না। ফার্মেসিতে একাধিক ফার্মাসিস্ট থাকতে হবে।
এসময় সাংবাদিকরা জেলার বেশিরভাগ ফার্মেসি বন্ধ থাকার বিষয়টি ওষুধ প্রশাসনের জেলা কর্মকর্তা সুলতানুল আরেফিনকে জানালে তিনি কেন এসব দোকান বন্ধ তার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। অবশেষে বিষয়টি ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালককে জানানো হলে তিনি বন্ধ থাকা ওষুধের দোকানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
ডিজি বলেন, আমরা অভিযান করতে নয় বরং তাদের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। কিন্তু আমার আসার সংবাদের পর অনেকেই দোকান বন্ধ রেখেছেন। এ ধরনের কার্যক্রম আমি আশা করিনি। দোকান বন্ধ রেখে পালিয়ে যাওয়ার কারণ কী সেটাও বোধগম্য নয়।
