বিলুপ্তির পথে ডুমুরিয়ার মৃৎ শিল্প
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২১ | ০০:৩৪
উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ, পৃষ্ঠপোষকতার অভার আর বাজারজাতকরণের নানা প্রতিকুলতায় হারিয়ে যাচ্ছে খুলনার ডুমুরিয়ার প্রসিদ্ধ মৃৎ শিল্প। ফলে এ পেশার সাথে নিয়োজিতরা দিন দিন বেকার হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়ন, শোভনা, খর্নিয়া, আটলিয়া, শরাফপুর, রুদাঘরা, মাগুরাঘোনা ও রঘুনাথপুর এ ৮টি ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে ৯ শতাধিক পরিবার মৃৎ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। তারা মাটি দিয়ে হাঁড়ি-পাতিল, কলসি, চাড়ী, ঢালী, রিং, মাটির ব্যাংক ও ফুলের টবসহ নানা দ্রব্য তৈরি করে স্থানীয় বিভিন্ন হাঁটবাজারে বিক্রি করতেন। সে দৃশ্য এখন তেমন একটা চোখে পড়ে না।
মৃৱ শিল্পের সঙ্গে জড়িত রানাই গ্রামের মালতী পাল, রিতা পাল, সুকুমার পাল ও আরতী পালসহ আরো কয়েকজন জানান, প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাব, এটেল মাটির সংকট, জ্বালানির জন্য বাঁশের মুথা, বাঁশের পাতা, কাঠ ও অন্যন্যা সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির কারণে অনেকে এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। এছাড়া মাটি দিয়ে তৈরি এসব জিনিসের দামও তেমন হয় না এখন। বর্তমান বাজারে প্লাস্টিকের আধুনিক সামগ্রীর সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে, মাটির তৈরি মৃৎ শিল্পের নিয়োজিত অনেক পরিবারই অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
ডুমুরিয়া ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক খান নুরুল ইসলাম বলেন, গ্রামে মৃৎ শিল্পের সাথে যারা জড়িত তারা দিন দিন বেকার হয়ে পড়ছেন। এ শিল্প টিকিয়ে না থাকলে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎ শিল্প একদিন হারিয়ে যাবে।
উপজেলার আটলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান প্রতাপ কুমার রায় বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য মৃৎ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
