চাঁদপুরে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিময় এমভি ইকরাম
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা- সমকাল
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২১ | ১০:১৮ | আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২১ | ১০:৪৩
চাঁদপুরের সব মুক্তিযোদ্ধা এবং আপামর জনতার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত শত্রুজাহাজ এমভি ইকরাম (লোরাম) স্থানান্তরিত হচ্ছে চাঁদপুরে।
শুধু তাই নয়, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে এখানে এক একর জমিতে একটি নৌ-জাদুঘর করারও পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
জাদুঘরের স্থান নির্ধারণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ মামুনুল আলমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার চাঁদপুর শহরের ডাকাতিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেছে।
এ সময় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার রঞ্জিত কুমার দে চাকি, সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসিন পাঠান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সানাউল্লাহ, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশাহ, জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বিআইডব্লিউটিএ, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, এমভি আকরাম যুদ্ধজাহাজটি চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীর পাড়সংলগ্ন স্থানে সংরক্ষণ করা হবে। এখানে একটি অত্যাধুনিক মিউজিয়াম করা হবে। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ডাকাতিয়া নদীর তীরবর্তী স্থান পরিদর্শন করে গেছে। পরবর্তী পদক্ষেপ শিগগির নেওয়া হবে।
এ সময় শত্রুজাহাজ এমভি ইকরাম ডুবিয়ে দেওয়ার অপারেশনে অংশগ্রহণকারী শাহজাহান কবির বীরপ্রতীক ও মমিন উল্লাহ পাটওয়ারী বীরপ্রতীক বলেন, এটি আমাদের জন্য খুবই গর্বের। শেষ পর্যন্ত এটি এখানে হচ্ছে জেনে আমরা আনন্দিত।
প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ৩০ অক্টোবর গভীর রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর নিশ্ছিদ্র টহলদারির মধ্যেই সাবমেরিনার শেখ আমানউল্লা বীরবিক্রমের নেতৃত্বে চাঁদপুরের নৌ-কমান্ডো লিমপেট মাইনের সাহায্যে ডাকাতিয়া নদীর লন্ডন ঘাটে পাকিস্তানি বাহিনীর রসদ ও অস্ত্রশস্ত্র বহনকারী এমভি ইকরামকে (লোরাম) ডুবিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পাকিস্তানিরা অনেক চেষ্টা করেও এ জাহাজটিকে তুলে নদীবন্দরটি আর সচল করতে পারেনি। যুদ্ধের পর বাংলাদেশ সরকার জাহাজ উদ্ধারকারী এমভি হামজা ও এমভি রুস্তমের সাহায্যে ডুবন্ত জাহাজটি উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ১৯৮২ সালে শিল্প মন্ত্রণালয় এ জাহাজটিকে নিলামে বিক্রি করে। কিন্তু এই ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানটিও জাহাজটিকে পানির নিচ থেকে ওঠাতে ব্যর্থ হয়।
তবে ২০০৮ সালের ৯ অক্টোবর ডাকাতিয়া নদীর তলদেশ থেকে জাহাজটি তুলে নিলামে বিক্রি করে দিলে চাঁদপুরের সচেতন মহল আন্দোলন শুরু করে। বর্তমানে জাহাজটি নারায়ণগঞ্জের একটি ডকইয়ার্ডে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। ২০১৮ সালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে অর্থ মন্ত্রণালয় এমভি ইকরাম জাহাজটির মালিকের দাবি পরিশোধ ও জাহাজটি সংরক্ষণের লক্ষ্যে দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। মন্ত্রণালয় এক কোটি ৯ লাখ পাঁচ হাজার টাকা মেসার্স মোক্তার হোসেন অ্যান্ড রফিকুল ইসলামকে পরিশোধ করে অবশিষ্ট ৯০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এমভি ইকরাম জাহাজ সংরক্ষণের ব্যয় হিসেবে গচ্ছিত রেখেছে।
এই শত্রুজাহাজটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে আসছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। দেশের নৌ-জাদুঘরও চাঁদপুরে করার দাবি জানান তারা। এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকার চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের নেতারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন।
এতে জরুরিভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এমভি ইকরাম জাহাজটিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুর ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে নিয়ে আসার এবং স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে এটিকে একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত ও উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
- বিষয় :
- চাঁদপুর
- মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিময়
- এমভি ইকরাম
