শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে মূল্যায়ন করা জেএসসির ১০০ খাতা জব্দ
ছবি: সমকাল
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:৩৯ | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:৪৫
পরিবারের কোনো সদস্য শিক্ষক নন। স্বামী অন্যত্র চাকরি করেন। স্ত্রী গৃহিনী। তাদের দুই ছেলের মধ্যে একজন জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। অন্যজন নার্সারিতে পড়ে। ওই বাড়ি থেকে সদ্য হয়ে যাওয়া জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ১০০টি খাতা জব্দ করেছে প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে, জেএসসি পরীক্ষা দেওয়া ছেলেটি খাতাগুলো মূল্যায়ন করেছে। ঘটনাটি দিনাজপুর জেলার বিরামপুরের।
সোমবার বিরামপুর আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে জিয়াউর রহমান নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর আলম ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জামিল উদ্দিন পুলিশ নিয়ে গিয়ে খাতাগুলো জব্দ করেন। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের জব্দকৃত ওই ১০০ খাতা বিরামপুর থানায় সংরক্ষিত রয়েছে বলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুর আলম জানিয়েছেন।
জানা গেছে, বিরামপুর পৌর শহরের আদর্শ বিদ্যালয় পাড়ার বাসিন্দা সাহানুর রহমান ও তার স্ত্রী শাহনাজ বেগম দু'জনেই শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। সাহানুর ফুলবাড়ি উপজেলার জয়নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক এবং তার স্ত্রী শাহনাজ বিরামপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। সদ্য শেষ হওয়া জেএসসি পরীক্ষার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ২৫০টি খাতা মূল্যায়নের জন্য দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড থেকে গ্রহণ করেন সাহানুর। এরপর তিনি সেগুলো মূল্যায়নের জন্য প্রতিবেশি জিয়াউর রহমানের বাড়িতে রেখে আসেন। কিন্তু যে বাড়িতে খাতা দেন ওই বাড়ির কেউই শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত নন। জিয়াউর চাকরির সুবাধে অন্যত্র থাকেন। তার স্ত্রী দিলরুবা বেগম গৃহিনী। তাদের দুই ছেলের মধ্যে একজন অনিক। সে এবারে জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে প্রশাসন ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০০টি খাতা জব্দ করে।
জিয়াউর রহমানের স্ত্রী দিলরুবা বেগম বলেন, শিক্ষক সাহানুর রহমান ২৫০টি খাতা দিয়ে গিয়েছিলেন যার মধ্যে মূল্যায়ন করা ১৫০টি খাতা নিয়ে গেছেন। বাকি ১০০টি খাতা ছিল। এই খাতাগুলো এবারে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তাদের ছেলে অনিক মূল্যায়ণ করেছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। এই ১০০টি খাতা মূল্যায়ন হয়ে গেলে সাহানুরের স্ত্রী শাহানাজ বেগমের খাতা দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
বিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুর আলম বলেন, জব্দকৃত খাতাগুলো সিলগালা করে বিরামপুর থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন, দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে এসব খাতা থানায় রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য শিক্ষক সাহানুর রহমান ও তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। পরে মোবাইলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে জব্দকৃত খাতা মূল্যায়ন বা ফলাফলে কোনো অসুবিধা হবে না।
- বিষয় :
- জেএসসি
- খাতা মূল্যায়ন
- দিনাজপুর