ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসীর অস্ত্র প্রশিক্ষণের ভিডিও ভাইরাল

নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসীর অস্ত্র প্রশিক্ষণের ভিডিও ভাইরাল
×

অস্ত্র হাতে ফতুল্লার কুতুবপুরের উঠতি সন্ত্রাসী সোহান (বাঁয়ে); সন্ত্রাসী মীর হোসেন মিরুর সঙ্গে তার ছবি- সংগৃহীত

এমএ খান মিঠু, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১৫:৫৮ | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১৬:১৬

প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে ২০-২২ বছর বয়সী এক যুবক শূন্যে গুলি ছুড়ছে। এ ধরনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে শুরু হয়েছে তোলপাড়। কে এই যুবক, শুরু হয় তার খোঁজ। জানা গেছে, এই যুবকের নাম সোহান। সে ফতুল্লার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে। সে কুতুবপুরের ত্রাস মীর হোসেন মীরুর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন। এলাকায় সোহান উঠতি সন্ত্রাসী হিসেবেও পরিচিত।

পাঁচ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, ফুলহাতা পোলো-শার্ট পরা সোহান পিস্তল হাতে পোজ দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নেপথ্য থেকে কেউ তাকে নির্দেশ দিচ্ছে- 'রেডি, ফায়ার'। আর সোহানও কমান্ড শুনে শূন্যে পিস্তল তুলে ধরে গুলি ছুড়ছে।

মীরুর বিরুদ্ধে ফতুল্লা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অস্ত্র, মাদক, হত্যাসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। তবে আদতে এ সংখ্যা দুই ডজন বলে জানা গেছে। চলতি মাসের প্রথম দিকে একটি মামলার পর মীরু আত্মগোপনে চলে যায়।

অতীতে কুতুবপুরের আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করত শফিকুর রহমান মেছের। ১৯৯৬ সালে ঢাকার মালিবাগ কাঁচাবাজারের সামনে আততায়ীর গুলিতে নিহত হয় মেছের। এর পর তার সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণে নেয় তার ছোট ভাই আশিকুর রহমান তোফাজ্জল। ২০০৯ সালের অক্টোবরে তোফাজ্জলের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। এর পর কুতুবপুরের অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ আসে মীরুর হাতে। অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতে প্রতিদিনই মীরু এলাকার তরুণ ও যুবকদের নানা প্রলোভনে নিজের দলে ভেড়ায়। হাতে তুলে দেয় অত্যাধুনিক অস্ত্র। সোহানের শূন্যে গুলি ছুড়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার ভিডিও এরই প্রমাণ বহন করে।

অস্ত্র প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, এ ধরনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত রোববার রাতেই সোহানের বাড়িতে তার নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালায়। তবে সোহানকে না পেয়ে তার বাবা জাহাঙ্গীর মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সে সঙ্গে সোহান সম্পর্কেও খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক, কোনো ছাড় নেই।

জানা গেছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সরকারদলীয় একটি পক্ষ মীরুর কোমরে গুলি করলে সে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়। এর পর হুইল চেয়ারে বসে সে বৃহত্তর কুতুবপুরের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ শুরু করে। মীরু তার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে তার ভাই ও ভাগ্নেদের সমন্বয়ে একটি বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে। বাহিনীর অন্যতম নেতৃত্বে রয়েছে তার বড় ভাই আলমগীর হোসেন ও ভাগ্নে শাকিল।

পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ায় মীরু বরাবরই আদালত থেকে অনুকম্পা পেয়ে থাকে। কোনো বড় ধরনের ঘটনার পর মীরু ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা হলেই সর্বপ্রথম আদালতে আত্মসমর্পণ করে মীরু। হুইল চেয়ারে বসে আত্মসমর্পণের কারণে আদালত বিশ্বাসই করতে চান না যে, মীরু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে পারে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, মীরুই ওই এলাকার সন্ত্রাসের একক অধিপতি।

কুতুবপুর এলাকাবাসীর অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মীরু ও তার বাহিনী ফতুল্লার বিশাল এলাকায় মাদক, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে। মীরু ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে খুনের মামলাসহ দুই ডজন মামলা থাকার পরও এলাকায় তাদের দাপট কমেনি। সর্বশেষ মীরু বাহিনীর সঙ্গে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চাঁদ সেলিম নামে তারই বাহিনীর এক সদস্যের বিরোধ বাধে। মীরু বাহিনীর কয়েকজন চাঁদের গ্রুপে যোগ দিয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে মীরুর ব্যবহূত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন

×