ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দাবি না মানলে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুরে তেল বিক্রি বন্ধ

দাবি না মানলে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুরে তেল বিক্রি বন্ধ
×

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান রতন-সমকাল

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০১৯ | ০৩:০৫ | আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০১৯ | ০৩:০৬

জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন এবং ট্যাংকলরির ভাড়া বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবি ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। দাবি না মানলে পহেলা ডিসেম্বর থেকে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সব ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন, পরিবহন ও বিপণন কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হবে। 

মঙ্গবাল দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ ঘোষণা দেয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান রতন।

সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত দাবিগুলো হলো- জ্বালানি তেল বিক্রির প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে সাড়ে ৭ শতাংশ করা, জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট নাকি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান-বিষয়টি সুনির্দিষ্টকরণ, প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে ট্যাংকলরি শ্রমিকদের ৫ লাক টাকা দুর্ঘটনা বীমা প্রথা প্রণয়ন,  ট্যাংকলরির ভাড়া  বৃদ্ধি, পেট্রোল পাম্পের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত পাবলিক টয়লেট, জেনারেল স্টোর ও ক্লিনার নিয়োগের বিধান বাতিল, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক পেট্রোল পাম্পের প্রবেশ দ্বারের ভূমির জন্য ইজারা গ্রহণের প্রথা বাতিল,  ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ব্যতিত অন্য দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক লাইসেন্স গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল, বিএসটিআই কর্তৃক আন্ডার গ্রাউন্ড ট্যাংক ৫ বছর অন্তর বাধ্যতামুলক ক্যালিব্রেশনের সিদ্ধান্ত বাতিল, ট্যাংকলরি চলাচলে পুলিশি হয়রানি বন্ধ, সুনির্দিষ্ট দপ্তর ব্যতিত সরকারি অন্যান্য দাপ্তরিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডিলার বা এজেন্টদেরকে অযথা হয়রানি বন্ধ, নতুন কোন পেট্রোল পাম্প নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় জ্বালানি তেল মালিক সমিতির ছাড়পত্রের বিধান চালু, পেট্রোল পাম্পের পাশে যেকোন স্থাপনা নির্মার্ণের পূর্বে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তি সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক ও বিভিন্ন জেলায় ট্যাংকলরি থেকে জোরপূর্বক পৌরসভার চাঁদা গ্রহণ বন্ধ করা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উল্লেখিত দাবির বিষয়ে সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও শুধু মৌখিক আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় পেট্রোল পাম্প পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কারণ খাতটি এরই মধ্যে অলাভজনক হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই তারা চূড়ান্ত কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই ধরনের কর্মসূচির কথা খুলনা এবং রংপুর বিভাগ থেকেও আলাদাভাবে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি এম এ মোমিন দুলাল, রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ এ আর এম খোরশেদ আলম লিটন, আব্দুল করিম, জাহিদুর রহমান, এবিএম সিদ্দিক, উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন বাঘাবাড়ী ঘাট শাখার কার্যকরী সভাপতি আজিজুর রহমান গ্যাদা ও সাংগাঠনিক সম্পাদক আজমত মোল্লা।

আরও পড়ুন

×