ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সেই নিশির চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন পুলিশ সুপার

সেই নিশির চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন পুলিশ সুপার
×

নিশির বাবার হাতে চিকিৎসা সহায়তার টাকা তুলে দিচ্ছেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান। ছবি: সমকাল

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ০৫:২৪

নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মী নিশি আক্তারের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান। শিশুটির পর্যাপ্ত চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। 

ব্যাংক কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের ঢাকার বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করত নিশি। সেখানে তার ওপর গৃহকর্তা মিজানুর ও তার স্ত্রী শারমিন রহমান মুন্নি নিষ্ঠুর নির্যাতন চালান। নিশির শরীরে একাধিকবার ইস্ত্রি ও কাঁটা চামচ গরম করে ছ্যাঁকা এবং পেছনে হাতবেঁধে শরীরে গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয়। শিশুটির শরীরজুড়ে ক্ষতগুলো দেবে গেছে ভেতরের দিকে। অনেক চেষ্টার পর মেয়েকে কাছে পেলেও শারীরিক প্রতিবন্ধী মজিবুর রহমানের পক্ষে নিশির চিকিৎসার ব্যয় বহন সম্ভব হচ্ছিল না। এরপর নিশির চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নেন পুলিশ সুপার।

সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামানের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় শিশুটির বাবা মজিবুরকে। এ সময় পুলিশ সুপারের কাছে তিনি মেয়ের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতনের সর্ব্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। পুলিশ সুপার নিশির চিকিৎসার জন্য প্রাথমিকভাবে ১৫ হাজার টাকা সহায়তা দেন। এছাড়া নিশিকে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলার জন্য যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় নিশিকে। সেখানে চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা শুরু করেন। 

জেলার নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মজিবুর রহমানের মেয়ে নিশি আক্তার। সাড়ে তিন হাজার টাকা বেতনে অগ্রণী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মিজানুর রহমান বাবুলের বাসায় কাজ করত সে। তেজগাঁওয়ের ইন্দিরা রোডের বাসায় চার বছর ধরে নিশির ওপর নির্মম নির্যাতন চালায় মিজান ও তার স্ত্রী মুন্নি। শনিবার সন্ধ্যায় পরিবারের কাছে মেয়েটিকে দিয়ে পালানোর সময় জনতা আটকে পুলিশে দেয় এ দম্পতিকে। 

তাদের রিমান্ড চেয়ে রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য হয়নি। নিশিকে নির্যাতনের ঘটনায় বাবা মজিবুরের মামলায় প্রতিবেশী হেলাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি। 

নিশির বাবা মজিবুর রহমান বলেন, পুলিশ তার মেয়ের সব চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ায় খুশি। তবে নির্যাতনকারীদের সর্ব্বোচ্চ শাস্তি চান তিনি। পুলিশ সুপারের কাছ থেকে এ বিষয়ে আশ্বাসও পেয়েছেন।

ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার (এসপি) মোহা. আহমার উজ্জামান বলেন, শিশু গৃহকর্মী নিশিকে দেখার পর খুব খারাপ লেগেছে। তার (শিশুটির) চিকিৎসার সব ব্যয় তিনি বহন করবেন। এছাড়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুলিশি কার্যক্রম শেষে বিচার কার্যক্রম যেনো শুরু হয় সেজন্য তাদের তৎপরতা থাকবে।

আরও পড়ুন

×